অনুভব: ৩টি কবিতা

কবিতার ছবি

[‘পরের সাথে প্রকাশ্যে করি, ঝগড়া, নিজের সাথে করলে, তা কবিতা।’ –উইলিয়া বাটলার ইয়েটস]

কবিতা ১. সেইসব তরুণের জন্য প্রার্থনা

নীচে জ্বলছে আগুন। আগুনের উপর গাছ। গাছের উপর বরফ। বরফের উপর ছোট্ট চড়ুই। বরফগুলো কুচি কুচি পড়ছে আগুনের উপর। আগুন তা গিলে খাচ্ছে টপাটপ। সার্কাসের ডলফিন যেমন খায় তার প্রাপ্য খাবার। দৃশ্যটা এতটাই ভাল লেগে যায় তরুণ চড়ুইয়ের যে, সে নিজের একটা পালক তুলে ছুড়ে দেয় আগুনের দিকে। উড়ে উড়ে, ঘুড়ে ঘুড়ে পালকটা গিয়ে পড়ে আগুনের ভিতর। বাহ্! খুশিতে লাফিয়ে উঠে ছোট্ট চড়ুই। মনের আনন্দে আরেকটা পালক ছুড়ে দেয় সে, আরেকটা এবং আরেকটা- এভাবে সব।
জীবনের প্রয়োজনে যখন সে উড়তে চাইল, গিয়ে পড়ল ঠিক আগুনের ভিতর।

কবিতা ২. সৎ, চিৎ, আনন্দ

এমনকি অন্ধকারেরও আছে নিজস্ব আলো। বনের ভিতর অন্ধকারে যেতে যেতে ভাবে সে। গায়ে মেখে নেয় অন্ধকার। কান পেতে শোনে অন্ধকারের নিরূপম স্তব্ধতা। তারপর অন্ধকারকে আসন করে বসে পড়ে অন্ধকারেই। জ্বোনাকীরা উড়ছে। তাদের মোহময় আলো জ্বলছে নিভছে। বাহ! জ্বোনাকীরও আছে নিজস্ব আলো ভাবতে ভাবতে একটা জ্বোনাকী খেয়ে ফেলে সে। একটা দুইটা আরো একটা- অনেকটা। হাহ্! পেটের ভিতরে গিয়ে জ্বোনাকীরা আর জ্বোনাকী থাকে না। তারা নিজেদের বদলে ফেলে। যাদুকর যেমন কাগজ থেকে ফুল, ফুল থেকে পাখি, পাখি থেকে সাপ বানায় অবলীলায়; তেমনি তারা অবলীলায় বদলে ফেলে নিজেদের। হয়ে ওঠে- অস্তিত্ব চৈতন্য স্ফূর্তি এইসব।
পরদিন যখন সে ফেরে তার শহুরে বাসায়। অনুভব করে সুন্দর, মৃদু, শান্ত সমুজ্জ্বল আনন্দ। হৃদয় খুলে দেয়া সহমর্মিতার সুখ তাকে আচ্ছন্ন করে। দেয়ালের তুচ্ছ টিকটিকিকেও মনে হয় আপনজন।

কবিতা ৩. পরাজিত কমিউনিস্ট’র বিহ্বলতা

ভাল মানুষ সে। কিন্তু সেক্স যখন তাকে ছিঁড়ে-খুঁড়ে খাচ্ছে- সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত- তখন, নিজেরই একটা পাঁজর খুলে বেদম পেটাতে লাগল শিশ্নকে। শিশ্ন কিন্তু দমে যায় না। মনে মনে সে বলে- বাবু, তুমি লালনকে জান না! লালন বলেন, শরীর জাগবে শরীরের নিয়মে কিন্তু মন? তুমি বাবু মন ঠিক করো। বলে, চুপসে না গিয়ে শিশ্ন হয়ে ওঠে আরও টানটান। একেবারে প্রাচীণ গ্রিসীয় তরবারীর মতো। সে তখন কি করে? যৌথ খামারের স্বপ্ন দেখতে দেখতে বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি তার। আর কোন নারীর কাছেই বা যায় কি করে? পাছে তার আজন্ম ভালমানুষী হাওয়ায় ওড়ে ছেঁড়া পালকের মতো! শেষমেষ রেগেমেগে পোষা কুকুরীর সাথেই সে শুরু করে সঙ্গম। আর কুকুরীটাও এমন বজ্জাত যে তার পেট ফেলল ফুলিয়ে। বাচ্চা দিল তিনটে। অবিকল তার মতো।
সে তখন স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে। ভবিষ্যৎ থেকে অনেক দুরে। ক্ষোভ দুঃখ হতাশায় কেটে ফেলল তার শিশ্ন। এবং সুযোগ পেলেই দেখাতে লাগল- তার কোন শিশ্ন নাই।      

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here