প্রেম অথবা হত্যা রহস্য

এক.

ইনস্পেক্টর আরিফ তখনও ঘটনার সুরতহাল তৈরির কাজ কাজে ব্যস্ত ।

বাড়িওয়ালা কবীর সাহেব দরজার বাইরে থেকে ফোন উঁচিয়ে ধরেন, ‘মিস্টার আরিফ…’

আরিফ লাশের অবস্থা ও আস্থানের নোট নিচ্ছিল। দরজা দিয়ে তাকায় বাইরে।

কবীর সাহেব হাত বাড়িয়েই আছেন, ‘আপনার ফোন…’

‘আমার ফোন?’

প্রশ্নটা করে বটে আরিফ, কিন্তু সে জানে ফোনটা বেশ উঁচু মহলের কাউকে করে তাকে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অকারণে নিজের অবস্থান বোঝাবার কসরত যতসব। পুলিশি জীবনের এ এক সাধারণ অভিজ্ঞতা।

আরিফ খুব বিরক্ত হয়। রাগও হয়।

‘কে?’ বলে সে উত্তরের অপেক্ষা না করেই যোগ করে, ’বলুন, আমি ব্যাক করছি।’

বিরক্তি, রাগ দুটিই সামলাবার চেষ্টা করে সে।

‘জরুরী ফোন, ডিআইজি…’

‘আপনি বলুন, আমি ব্যাক করব।’

আরিফ বেশ আত্মবিশ্বাস ফুটিয়ে তোলে কণ্ঠে।

কবীর সাহেব খানিকটা অপ্রস্তুত হন। যে উৎসাহ আর উত্তেজনায় ফোনটা বাড়িয়েছিলেন তাতে বেশ ভাঁটা পড়ে।

আরিফ কাজ মন ফেরাতে গিয়ে টের পায় মেজাজটা ভালই তেতে গেছে। সেটুকু হজম বা তার অহং রক্ষা করতে সে নোট লেখা আপাতত বন্ধ রেখে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে আবার শুরু করে। লাশের দিকে তাকায় আবারো।

ওদিকে কবীর সাহেব আরিফের হয়ে ফোনে কৈফিয়ত দিচ্ছেন, ‘জ্বি ভাইজান, উনি আপনাকে ব্যাক করবেন। এক্ষুনি, করোনার সময় তো, সবাই খুব সতর্ক…’

লাশটি খানিকটা বাঁকা হয়ে ডাইনিং টেবিলের উপর পড়ে আছে। গলার দড়িটা বলছে, হত্যা বা আত্মহত্যা যাই হোক পূর্ব-পরিকল্পিত। ফাঁস লাগানোর এমন দড়ি সাধারণত কারো ঘরেই থাকে না। দড়ির মাথাটা কাটা। ওপাশটা ঝুলছে ফ্যানের হুকের সাথে। একট দা’ পড়ে আছে টেবিলে। মনে হয়, এই দা’ দিয়েই কাটা হয়েছে দড়িটি। দুটি চেয়ার মেঝেতে কাত হয়ে আছে। একটি সম্ভবত ফাঁসিতে ঝোলার জন্য টেবিলের উপর রেখে ব্যবহার করা হয়েছিল, অন্যটি লাশ নামানোর জন্য।

এখন পর্যন্ত যা জেনেছে আরিফ, লাশ নামিয়েছে দারোয়ান। সে এখন পলাতক। জানিয়েছেন কবীর সাহেব।

‘লাশটি একা নামিয়েছে দারোয়ান?’

আগের মতোই পুলিশি প্রশ্নটি ফের আসে আরিফের মনে।

‘নিশ্চয়ই না। এভাবে দড়ি কেটে লাশ নামানো একার পক্ষে সম্ভব নয়।’

আরিফ আবারো গভীর মনোযোগে নিরিখ করে মৃতদেহটি।

একহারা লম্বা শরীর। পাঁচ ফুট নয় বা দশ ইঞ্চি হবে। কোথাও এক ফোঁটা মেদ নেই। পেশল আর বলিষ্ঠ গড়ন। নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধূলা করত সে সন্দেহ নেই।

মুখের কাছে এসে আরিফের দৃষ্টি এবার স্থির হয়ে পড়ে।

সে শুধু হ্যান্ডসামই নয়, সুন্দর। খুব সুন্দর- সাধারণত পুরুষের সৌন্দর্য বলতে যা বোঝায়, তার সবই তার আছে।

পুরো ঠোঁট, উচ্চ কপাল, প্রশস্ত চেহারা, ছোট চিবুক, খাঁড়া নাক, ছোট এবং সরু চোয়াল, পরিষ্কার এবং মসৃণ ত্বক এবং প্রশস্ত দুটি চোখ।

দুটি চোখ এখনো কি তীক্ষ্ণ!

আগের বার খেয়াল করে নি আরিফ- ফাঁসিতে ঝুলে ‍মৃত্যুর যে তীব্র যন্ত্রণা থাকে মৃতের চোখে-মুখে, এর তা নেই।

মৃত্যুর যন্ত্রণাটা সে লুকিয়েছে কেমন করে?

আবারো পুরো শরীরটা দেখে আরিফ।

ছেলেটির নাম জেনেছে সে- হাসিব।

‘হাসিব, নিজেকে খুন করতে গেলে কেন তুমি?’ মনে মনে বলে আরিফ।

‘নাকি কেউ খুন করেছে তোমাকে?’

কে?’

দারোয়ান?’

ধরে নেয়া যাক দারোয়ান একাই লাশ নামিয়েছে। নামিয়েছে তো। সে নিশ্চিতই খুন করে নি।’

তবে কে?

বা কারা?’

আগে থেকেই ভেতরে ছিল সে? বা তারা ?’

কবীর সাহেব বলছেন, বেশ ক’দিন ধরে আরিফ একাই ছিল বাসায়। রাতে কেউ এসেছিল কিনা সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

অবস্থা দৃষ্টে এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে খোলা দরজা দিয়েই দারোয়ান ঘরে ঢুকেছিল।

দরজা ভাঙার কোনো আলামত নেই।

‘খুন করে পরে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়েছে? কিন্তু তা করতে যাবে কেন?’

‘এটা আত্মহত্যাই হবে।’ উপসংহার টানার চেষ্টা করে আরিফ। তারপর নোট লেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। লিখতে লিখতেই বলে-

‘কামরান সাহেব।’

এএসআই কামরান পাশেই দাঁড়ানো ছিল।

‘জ্বি স্যার?’

‘ছবিগুলো তুলতে পারবেন আপনি?’

‘জ্বি স্যার।’

‘তুলে ফেলুন তবে। সব এঙ্গেল থেকে তুলবেন। আমি একটু ওদিকটা দেখি।’

ডাইনিং টেবিলের পাশে- টেবিল থেকে ছ’-সাত ফুট দূরে একটা কাউন্টার- ঠিক রেস্টুরেন্টের মতো- ওপাশে কিচেন। কিন্তু এদিক থেকে কিচেনে ঢোকার কোনো দরজা নেই। কাউন্টারের ফাঁক গলিয়ে দৃষ্টি ফেলে আরিফ কিচেনে ঢোকার পথ বের করার চেষ্ট করে।

বাসার আকার-আকৃতি অনুযায়ী বেশ বড় কিচেন। বারমুখি দেয়ালের সাথে দরজা, মনে হয় দরজা খুললেই শূন্যে বেরুতে হবে। দৃষ্টি ফিরিয়ে আরিফ কবীর সাহেব যে দরজা দিয়ে ফোন দিতে এসেছিলেন তাকায়।

‘আচ্ছা তাহলে এদিক দিয়ে কিচেনে যাবার রাস্তা আছে।

আরিফ ঘুরে এপাশে এসে দরজা ঠেলে বের হয়। আর অমনি মধুমঞ্জরী ফুলের তীব্র গন্ধ এসে লাগে নাকে। তখনো সূর্য ওঠেনি, কিন্তু দিনের আলো ফুটে উঠেছে।

আরিফ বেরিয়েছে সরু একটা ঝুল বারান্দায়। বারান্দা মানে দেড়ফুট প্রশস্ত একটা দীর্ঘ পেসেজ। ফুট দশেক দূরে হাতের বাঁয়ে কিচেনে ঢোকার দরজা। কিচেনের দরজা ছাড়িয়ে পেসেজটি চলে গেছে আরো ফুট দশেক। পুরো পেসেজটি গ্রিল দিয়ে বন্ধ করা। আর পুরোটা গ্রিল জুড়ে মধুমঞ্জরীর সঘন ঝাড়- ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে। ঝিরঝিরে বাতাসে দুলছে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল।

আরিফের সামনে দরজার ঠিক বরাবরে ছোট্ট একটা গেট- খোলা। গেট থেকে বেরুলেই সামনের বিল্ডিংয়ের ছাদে নামার জন্য তিন ধাপ সিঁড়ি।

ছাদটা ভিষণ সুন্দর। ডান পাশটা জুড়ে বেশ বড় একটা বাগান। দেশি-বিদেশি ফুল আর ফল। কতগুলো গাছে ধরেছে আমের কুশি।

বাগনের পরে পাশ ঘেঁষে সিমেন্টের বেঞ্চ করে বসার ব্যবস্থা। একটু ভেতর দিকে মুখামুখি বসার জন্য আরো ক‘টি বেঞ্চ।

ছাদের মাঝখানে বিশাল একটি ছাতা। তার নিচে গোল একটি টেবিল। টেবিলের চারপাশে সিমেন্টের টুল। সেখানে বসে আছেন বিমর্ষ কবীর সাহেব- একা। ভদ্রলোককে দেখে কেন যেন মুহূর্তের মধ্যেই আরিফের মনের মধ্যে মায়া জমে ওঠে। তখন ফোন না ধরার জন্য খানিকটা অনুতপ্তও হয় সে।

আরিফকে দেখে ভদ্রলোক হাত তোলে। আসবে কিনা ইশারায় জানতে চায়।

আরিফ ইশারায় তাঁকে বসতে বলে। তারপর কিচেনের দিকে পা বাড়ায়।

ছিমছাম পরিচ্ছন্ন কিচেন। কেবিনেটের দরজাগুলো সব বন্ধ। সবকিছু ধোয়া, পরিষ্কার।

সেখান থেকে বেরিয়ে সে এগোয়, যায় পেসেজের শেষ মাথা পর্যন্ত। একেবারে প্রান্তে হাতের বাঁয়ে আরো একটি দরজা। নব ঘুরিয়ে ঠেলতেই দরজা খুলে যায়। দামি টাইলসে মোড়ানো বেশ বড় একটি বাথরুম।

বাড়ির একেবারে বাইরে, এমন একটা বাথরুমের কথা কেউ ভাবতেই পারবে না। তারপর তার মনে হয় ভেতরের রুম দুটি বড় হলেও কোনোটির সাথেই বাথরুম নেই। এমন কি ফাঁস ঝোলানো ড্রয়ি রুমের সাথেও না। তার মানে বাসাটার এই একটাই বাথরুম। দরজাটা আর একটু ঘুরিয়ে ডান দেয়ালে তাকাতেই বড় আয়নায় তার চোখ আটকে যায়।

আয়নার জুড়ে একটা ছবি আঁকা। আাঁকা মানে রীতিমত রঙতুলি দিয়ে ঘটা করে পেইন্টিং। পুরো আয়নাটি হালকা নীল আর সাদা দিয়ে ঢাকা। তার উপর মরা হলুদ, সাদা আর মিশেল সবুজের মোটা ব্রাশের পোঁচ আর ছোঁপ। সামনে সেমি প্রোফাইলে একটি মেয়ের উর্দ্ধাংশ। অপূর্ব সুন্দর সে। পড়েছে সাদা শাড়ি লাল পাড়। ঠোটে মায়াবী হাসি। সবুজ, হলুদের পোঁচগুলো উপচে এসে পড়েছে তার শাড়ি, হাত, গলা আর মুখের উপর। তারপর আঁকিবুকি করে কিছু একটা লেখা। সেটুকুতে রঙ নেই, আয়না।

দরজার বাইরের সুইচ টিপে আলো জ্বালে আরিফ। কাছে যেয়ে লেখাটি পড়ে।

‘তোমাকে ছাড়া এখন আমি বাঁচব কেমন করে?’

বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছবিটি দেখে আরিফ। তারপর মোবাইল বের করে ছবি তোলে।

সরু পেসেজ ধরে ফেরার সময় আরিফ দেখতে পায় কবীর সাহেব বসে আছেন সেভাবেই- বিষণ্ণ, একা।

সিঁড়ি বেয়ে ছাদে নেমে আসে আরিফ। আরিফকে আসতে দেখে কবীর সাহেব মাস্ক পড়ে নেন মুখে। আরিফও যেতে যেতে মাস্ক ঠিক করে নেয়।

‘দুঃখিত স্যার, আপনাকে রাত জাগাতে আর অপেক্ষা করাতে হল।’ কাছে এস বলে আরিফ।

‘না না এ তেমন কিছু নয়। এটা তো আমার নাগরিক দায়িত্বও। দেখুন তো, এই করোনা মহামারীর দুঃসময়ে কেমন একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল।’

‘দারোয়ানের কোনো খোঁজ করতে পারলেন?’ আরিফ প্রয়োজনীয় কথগুলো সারতে চায় আগে।

‘আমি তো সারাক্ষণ ফোন দিয়েই যাচ্ছি। প্রথম কয়েকবার ফোনটা ঢুকলো, কিন্তু ধরলো না। এখন তো একেবারেই বন্ধ।’

‘ কিন্তু আমাদের ওকে লাগবেই, খুব জরুরী। আপনি বরং ওর ডিটেইলসটা দিয়ে দিন, আমরা ট্রেস করে নেব।’

‘আচ্ছা আচ্ছা, বাসায় আছে, আমি দিয়ে দিচ্ছি।’

‘আর হাসিবের মা-বাবার কোনো নাম্বার? বা অন্য কোনো কন্টাক্ট..’

’আমার ছেলেকে বলেছি। ওর তো চেনা, খুব শীঘ্রীই পেয়ে যাব।’

‘পেলে ভাল, না পেলে ভাড়াটিয়া ফরমে যে স্থায়ি ঠিকানা আছে, সেখানে আমাদের চ্যানেলে আমরা খবর পাঠিয়ে দেব। ও হ্যা, আর একটা বিষয়ে আপনাদের একটু কষ্ট দেব, আপনার এবং বাসার অন্যান্যদের একটা স্টেটম্যান্ট নেব আমরা, মানে ওটা আমাদের করতে হয়।’

‘বাসার সবাই মানে… ’ ভদ্র্রলোক যেন একটু চিন্তায় পড়ে যান। ‘… না মানে আমার বাসায় আমি আর আমার স্ত্রী ছাড়া তো কেউ নেই। আর উনিও এখন ঘুমাচ্ছেন।’

‘না না এক্ষুণি দরকার নেই। আপনিও বরং বাসায় যেয়ে বিশ্রাম নিন। সন্ধ্যায় যদি একবার দয়া করে থানায়ে আসতে পারেন- আমরা ওখানেই কাজটা সেরে নেব।’

‘হ্যা হ্যা সেটাই ভাল হবে।’ এবার বেশ উৎসাহ দেখান কবীর সাহেব।

‘সুরতহাল শেষে লাশটা আমরা মর্গে পাঠিয়ে দিব। পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। আমরা কিছু জিনিস তদন্তের জন্য জব্দ করছি। সাক্ষী হিসেবে আপনি একটা স্বাক্ষর করে দেবন।’

‘কোনো সমস্যা নাই করে দেব।’

‘আচ্ছা, এবার একটু ফোন নাম্বারটা দিন, তখন তো আমি ব্যস্ত ছিলাম…’ প্রসঙ্গ পাল্টায় আরিফ।

‘না না তার আর দরকার নেই, তখন কি করব ‍বুঝে উঠতে না পেরে… আসলে আমি একটু ভয় পেয়ে গেছি তো।’

‘আপনি নাম্বারটা দিন, এখন ব্যাক করাটা আমার দায়িত্ব।’

অগত্যা নাম্বার দেন কবীর সাহেব। আরিফ কল করে এবং স্পিকার লাউড করে দেয়।

‘স্লামালিকুম স্যার…’

‘হ্যালো, ডিআইজি, এসবি বলছি, হারুন অর রশীদ’

’জ্বি স্যার।’ সটান দঁড়িয়ে পড়ে আরিফ।

‘ইন্সপেক্টর আরিফ বলছি স্যার, ডিউটি অফিসার পল্টন থানা।’

‘কাজ শেষ হয়েছে তোমার?’

‘জ্বি স্যার।’

‘শোন…’

‘স্যার…’

‘কবীর সাহেব আমার খুব ঘনিষ্ঠ জন…’

‘স্যার…’

‘আপন ভাই নয়- তবে তার থেকেও কম কিছু নয়…’

‘স্যার…’

‘দেখো, উনি যেন অযথা কোনো ঝামেলায় না পড়েন।’

‘স্যার, আপনি নিশ্চিত থাকুন স্যার, উনি অযথা কোনো ঝামেলায় পড়বেন না।’

‘উইশ ইউ গুড লাক। ভাল থেকো।’

‘থ্যান্ক ইউ স্যার।’

‘বাই।’ ওপাশ থেকে ফোন কেটে দেয়।

কান থেকে ফোন সরিয়ে আরিফ কবীর সাহেবের দিকে তাকায়। হাসে।

‘কিচ্ছু ভাববেন না আপনি স্যার, ছেলেটির আর কেউ থাকলে আপনাকে এতটুকু বিরক্ত করতাম না।’

‘সে আমি বুঝতে পারছি। আমি খুব লজ্জিত।’

‘না না, ও কিছু নয়।… বাই দ্য বাই, আপনার ওই বাসাটা কিন্তু অন্যরকম।’ সহজ হতে প্রসঙ্গ পাল্টায় আরিফ।

‘আর বলবেন না। আমার ছেলের কাণ্ড। এটা…’ নিচে আঙুল নির্দেশ করে দেখান তিনি। ‘… আমার বাবার করা। ষাটের দশকে। তিন তলার বেশি তখন সাধারণত করত না মানুষ। পেছনটা ছিল সারভেন্টস হাউজ। গ্রামের বাড়ির মতো ছোট্ট ছিমছাম বাড়ি ছিল ওটি। বছর বিশেক আগে, সংসারের খরচে দেখি আর কুলাতে পারি না। তাই ভাড়া দেবার জন্য করেছিলাম। তিন তলা করার পর টাকার অভাবে আর করতে পারি নি। বছর পনের আগে ছেলে আর্কিটেক্ট হয়ে বেরুল বুয়েট থেকে। বলল, চারতলাটা আমি আমার নিজের মতো করে করে নিই বাবা। …বিয়ের পর আর নিজেও থাকতে পারল ডিজাইনের কারণে। অগত্যা এই ফ্লোরটা আমাকে ব্যাচালারদেরই ভাড়া দিতে হয়। তবে খুব দেখে-শুনে দেই আমি।’

‘যাই বলুন স্যার, ব্যাচেলারদের জন্য কিন্তু খুব ভাল বাসাটি।’

‘হ্যা, সৌখিন ছেলেরা খুব পছন্দ করে।’

‘ঠিক আছে স্যার, রাতের ডিউটি ছিল, দেখি বাসায় ফিরতে পারি কিনা।… লাশ আমাদের দায়িত্বে মর্গে চলে যাবে, আমি বিকেলে আপনাকে ফোন করব।’

‘ঠিক আছে। আমরা রেডি হয়ে থাকব।’

ওদিকে কামরানের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় সে সেই লম্বা বারান্দায় বেরিয়ে আসে। আরিফ তাকে হাত-ইশারায় ডাকে।

‘কামরান?’

‘জ্বি স্যার।’

‘কতদূর ওদিকে?’

‘লাশ নামিয়ে নিচ্ছে স্যার, আলামতগুলোর জন্য একজন সাক্ষী দরকার…’

‘ও নিয়ে ভাববার কিছু নেই। স্যার আছেন, দিয়ে দেবেন।’ বলে তাকায় আরিফ কবীর সাহেবের দিকে।

‘হ্যা হ্যা অবশ্যই। দিন আমি সিগনেচার করে দিচ্ছি।’

‘জিনিসগুলো দেখে তবে সিগনেচার করার নিয়ম, স্যার।’ বলে কামরান।

‘জি, স্যার।’ যোগ করে আরিফ।

‘আচ্ছা তবে চলুন।’

‘যান কামরান সাহেব, আমি একটু এদিকটা দেখি।’

ওরা চলে গেলে আরিফ ছাদটা আরো একবার পর্যবেক্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে যেখানে সে আছে সেখানটা ঠিক অর্ধেক- মাপে ফুট পচিঁশেক হবে। ও মাথায় কোণায় সিঁড়িঘর। বাকিটুকু ফাঁকা। ছাদ প্রাচীর ঘেঁসে সিমেন্টের বেঞ্চ করে বসার ব্যবস্থা।

আরিফ হেঁটে ওপাশের ছাদ-প্রাচীর পর্যন্ত যায়। নিচে তাকায়। রাস্তা-লাগোয়া বাড়ি। গেট দিয়ে ঢুকে বাড়ির ভেতরে একটু ফাঁকা জায়গা। এই ভবনের গা ঘেঁসে পেছনের ভবনে অর্থাৎ হাসিবদের ভবনে ঢোকার আর একটি গেট। এই গেটটি দিয়েই ঢুকেছিল আরিফরা। ঢুকে একট চিপা গলির মত রাস্তা ধরে হেঁটেছিল ছাদসমান পথটুকু।

আরিফ এসে সিঁড়ি ঘরের দরজায় দাঁড়ায়। এ পাশ থেকে দরজাটি বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। আস্তে ধাক্কা দিলে খুলে যায় দরজাটি। কবীর সাহেব এই দরজা দিয়েই ছাদে প্রবেশ করেছেন। আরিফ ছাদঘরের ভেতর ঢুকে যায়। এপাশ থেকে কাঠের মোটা বেন্দা লাগিয়ে দরজা বন্ধ করার ব্যবস্থা আছে।

একটু এগিয়েই বায়ে ঘুরে নিচে নামার সিঁড়ি। পুরোনো কালের ভবন বলে সিঁড়িগুলো বেশ প্রশস্ত। তলাগুলোও বেশ উঁচু উঁচু।

আরিফ সিঁড়ি বেয়ে বেশ কয়েক ধাপ নিচে নেমে আসে। কবীর সাহেব টপ ফ্লোরেই থাকেন জেনেছে আরিফ।

কবীর সাহেবের বাসায় ঢোকার দু’ট রাস্তা। একটা কাঠের দরজা। আর একটি আয়রনরডের গেট। পরের গেটটি দিয়ে ঢুকলেই বিশাল লম্বা বারান্দা। লোহার শিকের ফাঁক গলে বারান্দার ও মাথা পর্যন্ত দেখা যায়।

আরিফ বাইরে থেকে একজন নারীর বেশ জোরালো কণ্ঠ শুনতে পায়। একটু কান পাততেই স্পষ্ট হয় কথাগুলো।

‘মা, বাধা দিও না।’

তারপর অন্য একটি কণ্ঠ শোনা যায়, ‘আমি বলেছি, তুমি ঘরে যাও, আমার সাথে আর উচ্চবাচ্য করো না। যাও।…যাও।

তারপর সব নীরব।

‘কবীর সাহেব যে বললেন, তাঁর স্ত্রী বাসায় একা, ঘুমুচ্ছেন।। তিনি কি মিথ্যা বলেছেন।

কেন?

Methylenedioxymethamphetamine MDMA regularly known as joy, is a psycoactive medication basically utilizes as a recreation medication. buy viagra online malaysia The ideal impacts incorporate changed sensations and expanded vitality,sympathy,and delight.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here