করোনাকাল ৪: আফরোজা

করোনাকাল শিরোনামে প্রকাশিত ইলোরা লিলিথের গল্পের প্রচ্ছদ ছবি এটি।

ঠিক। এইডাই ঠিক! আব্বাক শাস্তি দেয়া লাগবে! আমি মইরা গেলে তারপর কাইন্দ বইসা বইসা!

বাপের থাবড়ি খায়া আফরোজার কান্দা আসে না। রাগ ওঠে। বেজায় রাগ ওঠে। মনে কয় সবকিছু লাথ্থি দিয়া ভাইঙ্গা ফালায়।

হনহন কইরা ধপাস ধপাস পা ফালায়া সে চইলা আসে বাড়ির পিছন পাড়ে। বাড়ি আর কি সরকারি বান্দের উপড় তোলা ঘর। একখান ঘর। রাইতের বেলা বিছনা পাইতা শুইলে আর কুনু জায়গা থাকে না। অবিশ্যি দিনের বেলা বিছনা ভাজ কইরা রাখলে মেলা জায়গা হয়। ঝড় বাদলার দিনে ছোট বইন সুরাইয়ার সাথে ওইখানে কতকিছু খেলা যায়। সাপ লুডু, কড়ি, পুতুল বিয়া… আমি মইরা গেলে সুরাইয়া খেলবো কার সাথে? কিন্তুক আমি মইরাই যামু! যামুই আমি মইরা! আব্বা তখন বুঝবো কেমুন লাগে!

ঘরের পেছনের এই জায়গাডা আফরোজার খুব পছন্দের। খুব মন খারাপ হইলে কিংবা মন খুব খুশি হইলেও ও এইখানে আইসা বসে। গেল বছর ঈদে আব্বা খুব ফাইন একখান বুলু কালারের ফ্রক দিছিল । যেই খুশি লাগছিল তহন! আফরোজা ঈদের আগেই সেই ফ্রক পইড়া লুকায়া এইখানে বইসা আছিলো। কেও দ্যেখছিল না তাও মনে খুব আনন্দ হইছিল।

আরো পড়তে পারেন: জনযুদ্ধ

বাতাশোত ভাতের গন্ধ! বেকের ঘরেই ভাত রানতাছে। আমাগরে ঘরেই খালি নাই। উরি মা, প্যাটের মইদ্যে কাঁটা ঘায়ে নুন পরার মতন জ্বলতেছে ! আফরোজার বুক ফাইটা কান্দন আসে। অবিশ্যি তা ক্ষিদার জইন্যি না। বাপের দেয়া চড়ের দাগ এহনও ফুইটা আছে গালে। আফরোজা একবার হাত বোলায়। চোখের পানিত আরও স্পস্ট দেহা যায় আঙ্গুলের দাগ। লাল হয়া রইছে। -আব্বা আর কুনুদিন ভাত চামু না! আর কুনুদিন তোমাগরে ত্যাক্ত করমু না।’ ভাতের ফ্যানের মতন বলক দিয়া কান্দন আসে আফরোজার।

আব্বা আগে অনেক ভালোবাসত, মনে ভাসে আফরোজার। একবার মেলা থিকা মিশ্রির সাজ নিয়া আসছিলো। তার মইদ্যে একটা আছিলো শাপলা ফুল! কি যে সুন্দর আছিলো সেইটা! আগে কুনুদিন দেহে নাই। সুরাইয়া দেখলে জিদ করব বইলা আব্বা আফরোজারে গোপনে ডাইকা গামছার গিট খুইলা বাইর কইরা দিছিল।

একবার খুব জ্বর হইছিল আফরোজার। আব্বা সারারাইত গামছা দিয়া জলপট্টি দিছিল। কি যে কানছিল আব্বা সেইসুম.. . আব্বা কান্দে আর মা শুধু হাসে। কয়, তুমি একটো পাগল! ছাওয়াল-পাওয়ালের কি অসুখ বিসুখ হইবো না?

আব্বা কান্দে আর কয় এইডা তো আমার মাইয়া না, এইডা আমার আম্মা!

আফরোজার চিক্কুর দিয়া কান্দা আসে। আব্বা আপনের মায়েরে আপনে কেমনে মারলেন? কি দোষ করছিলাম আমি? কি দোষ করছিলাম! ক্ষিদা নাগছে ভাত চাইছি। খালি ভাতই তো একটু খাইবার চাইছি, তাই আপনে আমারে মারলেন? এ কয়দিন তো কিছু কই নাই। করোনার জইন্য কাম নাই তাই আজ কয়দিন ধইরাই তো আমরা তিন বেলার জায়গায় দুই বেলা খাইতাছিল। আইজকা বেশি ক্ষিদা নাগছিলো। বেনা মা গাছের উস্তা দিয়া ভাত রানছিল না, আপনে দেখলেন না আমি তিতার জইন্য প্যাট ভইরা খাইবার পারি নাই? আপনে সব জাইনাও আমারে মারলেন! থাক আব্বা। আর কুনুদিন আমি ভাত চামু না। আর কুনুদিন আপনের আমার নিগা কষ্ট কইরা কামাই করা নাগবো না।

আমি আর বাচমু না! বাঁচমুই না আমি আর।

করোনাকাল শিরোনামে প্রকাশিত ইলোরা লিলিথের গল্প ‘আফরোজা’য় ব্যবহৃত ছবি এটি।

ইশ্ কত সুন্দর সুন্দর জিনিস আছে আমার! ছোট বড় মিলায়া পাঁচটা পুতুল, সোনার লাহান এক সেট গয়না, পুঁতির মালা, লাল একটো লিপিস্টিক, আই ব্রু পেন্চিল, চুলের পাথ্থর বসাইন্যা কিলিপ, চুল বান্দা ফিতা, একটো হাতে বান্দা ঘড়ি- ঘড়িডা অবিশ্যি নষ্ট। তো কি হইছে, আমার তো আর টাইম দেহা নোগে না। সুরাইয়ার ঘড়িডা খুব পছন্দ। ওই নিক। আমার সবই ও নিয়া নিক। আমি তো মইরাই যামু!

আরো পড়তে পারেন: শুভ নববর্ষ

আফরোজা জানে কেমন কইরা একলা একলা মরতে হয়। একটা সিনেমায় দেখছিল। চেয়ার নিতে হয়। তার উপড় টুল নিতে হয়। একটা মোটা দড়ির এক মাথা ফ্যানের সাথে বান্ধতে হয়। তারপর সেই দড়ির আর এক মাথা গলায় আটকানোর নিগা ফাঁস দিতে হয়। সেই ফাঁস গলায় ঢুকায়া লাথ্থি দিয়া পায়ের নিচ থিকা টুল ফালায়া দিতে হয়।

আফরোজা মরলে সুরাইয়া খুব কানবো, মা খুব কানবো, ওগোরে কান্দা য্যান আফরোজার চোখ দিয়া ঝরঝর কইরা ঝরে। খুব কান্দা আসে তার। খুব বাঁচতে ইচ্ছা করে।

কিন্তু হায়! দশ বছরের শিশু জানে না কি কইরা কথার বরখেলাপ করতে হয়। কি কইরা কথা দিয়া কথা ঘুরাইতে হয়। নিজেরে যে সে কথা দিছে আজ মইরা যাইবো!

আফরোজা চেয়ারের উপড়ে রাখা টুলে দাঁড়ায়া ফাঁসটা গলায় ঢুকায়। ডান পা দিয়া টুলটা ফালায়া দেয়। উঃ! গলাডা কাইট্টা গেল! আব্বা আপনে কই! আসেন না দৌড়ায়া! আব্বা আসেন না একবার!

একবার শুধু মা ডাইকপার ইচ্ছা করতেছে কিন্তু গলা যে বুঁইজা আসলো! কথা যে আমার বন্ধ হয়া গেল মা! মা!

আরো পড়তে পারেন: এক মুঠো চাল

It is excreted with urine to some extent. generic viagra There are some clinical cases of Cialis use.

পূর্ববর্তী নিবন্ধতিনটি অণুগল্প
পরবর্তী নিবন্ধজানা অজানা jana ojana ৫: সবচেয়ে বেশি সময় না-খেয়ে বাঁচতে সক্ষম ১৫ প্রাণি
ইলোরা লিলিথ। টেলিভিশন নাট্যকার, গল্লেপকার, লেখক, ফ্যাসন ডিজাইনার ও মঞ্চাভিনেত্রী। জন্ম ১৯৭৮ সালের ১৪ই নভেম্বর দিনাজপুর জেলার রাণীসৈংকলে বাবার কর্মস্থলে। বড় হয়েছেন একটি মুক্তমনা সাংস্কৃতিক পরিবেশে। আবৃত্তি, অভিনয়, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, নৃত্য, ছবি আঁকা এসব ছিল তাঁর প্র্যাত্যহিক যাপিত জীবনের অংশ। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে নিয়েছেন সম্মান সহ ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি। তের বছরের দীর্ঘ থিয়েটার জীবনে অভিনয় করেছেন ৫০টিরও বেশি মঞ্চ নাটকে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মঞ্চ নাটকের করেছেন পোশাক পরিকল্পনা। দিয়েছেন নির্দেশনা। বর্তমানে তিনি ‘ফেবরিকা’ ও ‘লিলিথস ফ্যাসন’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা-পরিচালক এবং ফ্লাইং পেজেস ওয়েব ম্যাগাজিনের ব্যবস্থপনা সম্পাদক। ২০১২ সালে ইলোরা লিলিথ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসাবে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড আরটিভি স্টার এওয়ার্ড লাভ করেন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here