করোনা উদ্বেগ: নিয়ন্ত্রণের ১০ কৌশল

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে উদ্ভূত উদ্বেদ এই ছরির প্রতিপাদ্য। This picture is about corona virus anxiety.

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গোটা বিশ্ব এখন মহা সঙ্কটের মুখোমুখি। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। এখানেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। লক-ডাউনের কঠোরতায় অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত বন্ধ। দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজ, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

উদ্বেগ মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা। কিন্তু অতিশয় উদ্বেগ আমাদের শরীর, মন, আবেগকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করে এবং স্বাভাবিক জীবনকে করে তোলে বিপন্ন ।

ভেবে দেখুন, এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা আমাদের সমস্যা বা হতশার কোনো সুরাহা করে কি? একদমই না। বরং অবস্থাকেে আরো দীর্ঘায়িত বা জটিল করে তোলে।

তবে কেন আমরা এই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বয়ে বেড়াব?

আসুন, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে ঝেড়ে ফেলে বর্তমানে টিকে থাকার আর ভবিষ্যতের সঙ্কট উৎরাবার একটা পথ খুঁজে বার করবার চেষ্টা করি।

এখানে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে দূরে থাকার বা ঝেড়ে ফেলার দশটি কৌশল উল্লেখ করা হল। যথাযথ অনুশীলনে, আশা করি, সফলতা আসবে।

১. পরিবারিক শান্তি বজায় রাখুন

করোনা মহামারীর এই সঙ্কটকালে আমরা প্রায় সবাই পরিবারের সাথে বাড়িতে অবস্থান করছি। যে কোন অবস্থায় এসময় পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। অনিয়ন্ত্রিত পারিবারিক কলহ অযথা আপনার মানসিক উদ্বেগ সৃষ্টি বা বৃদ্ধি করতে পারে। সম্ভাব্য কলহ এড়াতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ছোটখাট ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা এবং অন্যের অভিযোগ-অনুযোগের কড়া জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকুন। সমঝোতা করুন, শান্তি আসবেই।

২. আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগে সক্রিয় হোন

টেলিফোন, ভিডিও কল, স্যোশাল মিডিয়া, ম্যাসেন্জার ইত্যাদি ব্যবহার করে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলুন। তাদের খোঁজ-খবর নিন। বিশেষ পরিস্থিতিতে দূরে থাকতে হচ্ছে, দূরে থাকুন। কিন্তু সবার সাথে জুড়ে থাকুন।

৩. আপনার উদ্বেগ নির্ভরযোগ্য কারো সাথে শেয়ার করুন

মনের মধ্যে গুমড়ে থাকা অনিয়ন্ত্রিত ও অত্যধিক উদ্বেগ ভয়াবহ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। উদ্বেগের যৌক্তিক কারণ প্রথমে নিজে বিশ্নেষণ করুন এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য কারো সাথে তা শেয়ার করুন। পরামর্শ নিন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই উদ্বেগ পুষে রাখবেন না।

৪. পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার চর্চা জোরদার করুন

করোনা-পরিস্থিতি একক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্কট নয়। গোটা বিশ্বের প্রায় সব মানুষই এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার। পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া এই সঙ্কট কোন ভাবেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। সুতরাং ভালবেসে সকলকে পাশে রাখুন, পাশে থাকুন। প্রয়োজনে অন্যের সহযোগিতা নিন।

৫. যথাসাধ্য যৌক্তিক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন

সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত যথাসাধ্য প্রস্তুতি আপনার উদ্বেগ অনেকাংশে লাঘব করবে। আতঙ্কিত হবেন না। পরিকল্পনা গ্রহণের সময় নিজের সক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিন। অবশ্যই মানবিক মূল্যবোধ সম্মুন্নত রাখুন।

৬. নিজের শরীরের ব্যাপারে যত্নবান হোন

গবেষণায় দেখা গেছে যে, শারিরীক সুস্থতা ব্যক্তির মানস ও আবেগকে প্রভাবিত করে। শারিরীকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি সহজেই উদ্বেগে আক্রান্ত হয় বা মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়। কাজেই নিজের শরীরের ব্যাপারে বাড়তি নজর দিন। সাধ্যের মধ্যে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান ও পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং পানি পান করুন। যারা ইতোপূর্বে স্থায়ীভাবে ঔষধ সেবন করতেন ( যেমন- প্রেসার, ডায়াবেটিক, হৃদরোগ ইত্যাদি), ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তা চালিয়ে যান। প্রতিদিন সময় করে বাড়িতেই নিয়মমাফিক ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করুন।

৭. গুজবে কান দেবেন না

সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে নানান মহল নানা স্বার্থে অসত্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। অনির্ভরশীল উৎস, বা লুকানো উৎস থেকে প্রাপ্ত এসব অসত্য বা মিথ্যা তথ্য অহেতুক আপনাকে উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজের সামাজিক মাধ্যমে অসত্য বা মিথ্যা তথ্য শেয়ার করে গুজব ছড়ানোর দায় নেবেন না।

৮. অনিবার্য ঘটনা নিয়ে অহেতুক দুুশ্চন্তা করবে না

আমরা জীবনের এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আমাদের হাত নেই। এক্ষেত্রে ঐ পরিস্থিতি নিয়ে অহেতুক উদ্বিগ্ন না হয়ে, তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার কোন ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। কাজেই করোনা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না। মানুষের সামষ্টিক শক্তির উপর আস্থা রাখুন। যারা কাজ করবার তাঁরা রাতদিন কাজ করছেন। সময় মত ভ্যাকসিন অবশ্যিই তৈরি হবে। আমাদের কাজ হলো, নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা সংস্থার (যেমন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইত্যাদি) দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সে ব্যাপারে যত্নবান হোন।

৯. সৃজনশীল, আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

লকডাউনে বাধ্যগত বাড়িতে অবস্থানকে একটা সুযোগ হিসেবে নিন। এতোদিন কাজের ব্যস্ততায় ইচ্ছে থাকলেও যা যা করে ওঠা আপনার জন্য সম্ভব হয়নি, এই সুযোগে ঘরে বসে করা গেলে সেগুলো সেরে ফেলুন। প্রিয় লেখক বা বিষয়ের বই পড়ুন, লিখুন, মুভি দেখুন। বাচ্চাদের সাথে মজা করুন। ইচ্ছে হলে, জনসেবা করুন। ত্রাণ কাজে অংশ নিন।

১০. ঘুমান

সুস্থ দেহ আর দুশ্চিন্তামুক্ত মনের জন্য মানসম্পন্ন ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলতে গেলে, শারিরীক সুস্থতা, দুশ্চিন্তামুক্ত মানসিক অবস্থা ও মানসম্পন্ন ঘুম- এই তিনের সুসমন্বয়েই আপনি পেতে পারেন একটা নিরুদ্বিগ্ন জীবন। উপরোল্লেখিত কৌশলসমূহ অনুসরণ করে শারিরীক ও মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রয়ণের পাশাপাশি মানসম্পন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। করোনা পরিস্থিতিতে দিন-রাত বাড়িতে অবস্থানের সুবাদে আমাদের অনেকেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে শুয়ে-বসে সময় অতিবাহিত করছি। তা না করে সময়টাকে একটি রুটিন মাফিক ছন্দ্যে বাঁধুন। ঘুমের জন্য দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা নির্দিষ্ট সময় রাখুন। ঘুমানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করুন। ঘুমের আগে দীর্ঘসময় টেলিভিশন দেখা, ফোনে কথা বলা, অতিরিক্ত ফেসবুকিং করা রুটিন ঘুমের ব্যাঘাত করতে পারে। সতর্ক থাকুন।

তথ্যসূত্র:

Alle virale RNA’er er specialiserede i NBL, som beskrevet i eksperimenter med lymfocytter med biotinylerede oligonukleotider efterfulgt af hvede tæmmet med streptavidin koblet til CyThe N, danner en population omkring de virale RNA’er. tadalafil pris Kauteriseringen produceret på denne måde har en ensartet sekvens vist i pentamerne af den dybe kapsid.

পূর্ববর্তী নিবন্ধলকডাউনে শিশুর শিক্ষা: শিখনক্রিয়া সচল রাখার পাঁচটি উপায়
পরবর্তী নিবন্ধএক গুচ্ছ কবিতা
ড. এ. কে. এম. বদরুল আলম দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা, ভাষাশিক্ষা, শিশুশিক্ষা ও শিক্ষক-শিক্ষা এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট নানাবিধ কর্মকাণ্ডের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত আছেন। প্রাথমিক স্তরের বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রমের আওতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রবর্তিত চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নির্দেশনা গাইডের তিনি অন্যতম লেখক। এছাড়া তিনি বাংলা বিষয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তক রিভিউ কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষায় সম্মাানসহ ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বৃটেনের বাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় 'শিখন ও শিক্ষণ' বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি চীনের সাউথওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'শিক্ষাক্রম ও নির্দেশনা' বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। পেশাগত কারণে তাঁর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, আরব-আমিরাত, চীন, উগান্ডা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

7 COMMENTS

  1. ভাইয়া,
    কেমন আছ, করোনা নিয়ে একটা তথ্যবহুল এবং প্রানবন্ত লেখা পরলাম।
    অনেক ভালো লাগলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here