করোনা ভাইরাস আপডেট বাংলাদেশ: দারিদ্র্য ও টিকে থাকার লড়াই

করোনা ভাইরাস আপডেট বাংলাদেশ: সাবধান! দারিদ্র্য ফনা তুলছে

আজকের করোনা ভাইরাস আপডেট বাংলাদেশ

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ ১৪ জুন বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৪১ জন। মৃত্যু ৩২ জন, সুস্থ হয়েছেন ৯০৩ জন।

করোনা ভাইরাস আপডেট তো পাচ্ছি আমরা প্রতিদিন। দিনে দিনে যোগফলটা কি দাঁড়াচ্ছে। স্বপ্ন বাঁচবে তো আমাদের। নাকি টিকে থাকাটাই এখন বড় প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ কি?

হিসেব কষে কোনো ফলাফল পাব কি আমরা?

প্রতিদিনের চাপ ও যোগফল

আমাদের প্রতিদিনকার করোনা আপডেট ক’দিন ধরে মোটামুটি এক রকমই। আক্রান্ত আর সুস্থ হবার সংখ্যার ফারাকটা লক্ষ্য করুন। এই ফারাকই বলে দেয় প্রতিদিন কি হারে রোগির চাপ জমা হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর। এই ফারাকও আবার বড় হচ্ছে প্রতিদিন। বাড়াচ্ছে চাপ- পরীক্ষা করার লাইনে, হাসপাতালে, ডাক্তারদের উপর। চাপটা এরকম শুধু যদি স্বাস্থ্য খাতের উপরই বাড়তে থাকত তবে হয়তো উদ্বেগের একটা সীমা নির্ধারণ করতে পারতাম আমরা। কিন্তু আমরা সবাই জানি, সাধারণ ছুটি, লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশানের মধ্য দিয়ে এই চাপ প্রচণ্ড ও প্রসারিত হয়ে সর্বব্যাপী আর সর্বগ্রাসী হয়েে উঠেছে।

ঢাকায় ফকিরের পুল পানির ট্যাঙ্কির সামনে দিন মজুরদের একটা হাট বসে। স্বাভাবিক সময়ে, প্রতিদিন ভোরে, ২০০ থেকে ৩০০ লোক তাঁদের দক্ষতা আর সামর্থ্য নিয়ে এখানে জমায়েত হতেন শ্রম বিক্রি করতে। এর ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ লোকই নিম্নতম ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার দৈনিক চুক্তিতে কাজ পেয়ে যেতেন।

এরকম হাট আছে, শান্তিনগরে, মালিবাগে, বাড্ডায়, রামপুরায়, কমলাপুরে, মোহাম্মদপুরে, মীরপুরে- ঢাকার কোথায় নয়। এর সব ক’টিই এখন ফাঁকা। যে কজন আসছেন তাঁদেরও জুটছে না কাজ।

এতো গেল ভাসমান শ্রমবাজারের কথা। রিক্সাচালক, মিন্তি, গৃহকর্মী- নিয়মিত যাঁদের বাঁধা কাজ ছিল তাঁদের বিশাল অংশ এখন বেকার। বেকার হয়েছে অসংখ্য কারখানা শ্রমিক। অফিস কর্মীদেরও রেহাই নেই। ছাটাই হয়েছে, হচ্ছে। হুমকি দিয়ে, পরিস্থিতির কারণে বা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বেতন কমানো হচ্ছে অফিসে অফিসে।

বড় পুঁজির ব্যবসায়ীরা হয়তো কোন ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন, মধ্যম পুঁজির যারা, পুঁজি ভাঙিয়ে তাঁরা টিকে থাকছেন। আর ছোট পুঁজির যাঁরা তাঁদের পুঁজি শূন্য হয়েছে বা হতে চলেছে।

মোদ্দা কথা, মানুষ আয়হীন হয়েছে, হচ্ছে। মানুষের আয় কমেছে, কমছে। প্রতিদিনের এই চাপ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার হিসেব করার কোনো মাপকাঠি কি আমাদের হাতে আছে? এর শেষ কোথায়?

আমাদের কারো কাছেই এর কোন সদুত্তর নেই।

চরম দারিদ্র্য সীমা ও বাংলাদেশ

বিশ্ব ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী বর্তমানে চরম দারিদ্র সীমা হচ্ছে ১.৯ ইউএস ডলার বা প্রায় ১৬২ টাকা। অর্থাৎ একজন মানুষ প্রতিদিন তার জীবন ধারণের জন্য ১৬২ টাকা খরচ করতে না পারলে সে চরম দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে সর্বমোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৪.২ ভাগই ছিল দারিদ্র্য সীমার নিচে। ২০০০ সালে এই সংখ্যা এস দাঁড়ায় শতকরা ৩৪.৮-এ। ২০০৮ সালের পর থেকে এই সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় শতকরা ১৪.৮-এ। দরিদ্র সংখ্যার এই নিম্নমুখী গতি থেকেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। আশা ছিল ২০২৫ সালে দারিদ্র্যকে নির্মূল করে আমরা সে লক্ষ্যের বাস্তব ভিত্তি গড়ব। এগিয়ে যাব সমৃদ্ধি আর অগ্রগতির পথে।

আমরা কি হোঁচট খেলাম?

কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা থমকে গেলাম।

আমরা কি তবে কোভিড ১৯-এ হোঁচট খেলাম?

কতটা আহত হলাম আমরা?

উঠে দাঁড়াতে পারব তো?

[আরো পড়তে পারেন: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে বয়স কমানোর উপায় ]

এসব প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় এখনো আসে নি। তবে করোনা ভাইরাস আপডেট থেকে আমরা একটা ভাসা ভাসা ধারণা নিতে পারি। না, আমি এখানে রোগির সংখ্যা বা মৃতের সংখ্যার আপডেটের কথা বলছি না। আমি খবর নিতে চাচ্ছি এর প্রভাব কতটা পড়ল আমাদের অর্থনীতির উপর, উন্নয়নের উপর, আমাদের পরিকল্পনা বা স্বপ্নের উপর।

করোনা ভাইরাস আপডেট ১

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আশঙ্কা করছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে বাংলাদেশে দারিদ্রের সংখ্যা ‍দ্বিগুণ বেড়ে ৪০.৯ হতে পারে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে মে সময়ে শ্রমজীবী পরিবারগুলো গড় আয় তাদের অন্য সময়ের স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় ৭৪% ভাগ কমেছে।

করোনা ভাইরাস আপডেট

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণায় ব্র্যাক জানাচ্ছে, গত মার্চ থেকে মে সময়ে কৃষকদের লোকসান হয়েছে ৫৬৫.৩৬ বিলিয়ন অর্থাৎ ৫৬৫৩৬০ কোটি টাকা।

করোনা ভাইরাস আপডেট

করোনা মহামারী ইউরোপ-আমেরিকায় আঘাত হানার পর পোষাক রপ্তানিতে গত বছর এপ্রিলের তুলনায় এ বছর আয় কমেছে শতকরা ৮৪ ভাগ। একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী করোনার কারণে প্রায় ১০০০ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং বেকার হয়েছে প্রায় ২২ লক্ষ শ্রমিক।

করোনা ভাইরাস আপডেট

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মার্চে আমাদের রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪১৪ কোটি টাকার যা গত বছর মার্চে ছিল ২৫৬৬৬ কোটি টাকা। এপ্রিল-মেতে এ অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

করোনা ভাইরাস আপডেট

করোনা মহামারীর কারণে আমাদের আয়ের আরো একটি বড় খাত রেমিটেন্সেও ধ্বস নেমেছে। বিশ্ব ব্যাংক আশঙ্কা করছে এ খাত থেকে গত বছরের তুলনায় আয় কমবে শতকরা ২২ ভাগ। ধারণ করা হচ্ছে প্রায় ১৪ লক্ষ প্রবাসী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন বা ফিরবেন।

করোনা ভাইরাস আপডেট

অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপি) ভবিষ্যত বার্তায় আশঙ্কা প্রকাশ প্রকাশ করেছে, যদি এ বছর বিশ্বে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যশষ্য উৎপাদিতও হয় তবু করোনা পরিস্থিতির কারণে ভঙ্গুর ব্যবসায়িক ও বিপণন ব্যবস্থার কারণে কিছু দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে।

[পড়তে পারেন: করোনা উদ্বেগ: নিয়ন্ত্রণের ১০ কৌশল ]

করোনাকালে বাজেট : আশাবাদের না টিকে থাকার?

এত কঠিন সময়ে এবং এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেটের শিরোনাম ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যতের পথপরিক্রমা’। এই শিরোনাম দিয়ে অর্থমন্ত্রী যেন জাতিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থনীতি করোনা মহামারির ছোবল থেকে ঝুঁকিমুক্ত হবে এমন কোনো আশা কি আছে বাজেটে?

মহামারি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা যখন অনিশ্চিত তখন পরিকল্পনা করে অর্থনীতিকে ঝুঁকিমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করার যেকোনো প্রচেষ্টাই অনুমাননির্ভর হতে বাধ্য। অনুমানও একটা অবলম্বন বটে। ভবিতব্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকা কোনো কাজের কাজ হতে পারে না। সেজন্য আমি বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাতে চাই।

বাজেটে করোনা মহামারির বিবেচনায় কতগুলো খাত এবং বিভাগকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

  • জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা
  • খাদ্যনিরাপত্তা
  • সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বিস্তৃত ও জোরদার করা
  • কৃষি ও কৃষক সুরক্ষা
  • কৃষিবহির্ভূত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের ভর্তুকি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। 
  • ফেরত প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের আশা বাঁচিয়ে রাখা।

মহামারি প্রলম্বিত হলে বাজেট ও পরিকল্পনা উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে নিসন্দেহেই। যে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে আমরা দারিদ্র্যকে জয় করার স্বপ্ন দেখেছিলাম তা হয়ে যাবে সুদূর পরাহত।

তবুও আশা ছাড়তে চাই না।

এই সরকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়ের সামর্থ্য দেখিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেও একই রকম সামর্থ্য দেখাতে পারবে, সে বিশ্বাস রাখতে চাই।

প্রতিকূলতার মধ্যেই স্বপ্ন দেখা জাতি আমরা। সরকার যদি দুর্নীতিবাজদের রুখে দিতে পারে, যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সামর্থ্যকে ব্যবহার করতে পারে পুরোপুরি, টিকে থাকব আমরা।

টিকে থাকতে পারলে, স্বপ্ন আবার ধরা দিবেই।

As with a technically easier to have reserve of water, limestone, chalk, marble, and similar compromise does not exist in order to look for money, hence eea. cialis tablets Illness: In the duration of t test.

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here