বাবার ডায়েরি

তানজিমা তার বিছানায় শুয়ে আছে, তার মন খুব খুব খারাপ। সে তার বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বাবা অনুমতি দেন নি, বাবা প্রায়ই এমন করে, এসব ব্যাপার নিয়ে প্রায় মন কষাকষি হয় বাবা মেয়ের। তার মাঝে মধ্যে মনে হয় মা থাকলে খুব ভালো হতো। তানজিমার মা ছোটবেলায় মারা যান। মায়ের কোন স্মৃতিই তার নেই। কিন্তু সে স্কুলে তার বান্ধবীদের কাছে শুনেছে যে মা নাকি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। মায়েরা নিজের ছেলে মেয়েদের জন্য যত কষ্ট সহ্য করে পৃথিবীর কেউ তা করে না। এগুলো শুনে তার মনে হয়, ‘ইশ্! আমারও যদি আম্মু থাকত, তা হলে কত ভালোই না হতো।’

তানজিমা বিছানা থেকে উঠে তার পড়ার টেবিলে গিয়ে তার লাল ডায়েরি নিয়ে বসল। তানজিমার কোনো ভাইবোন নেই। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে বড় হওয়া। বাবা তাকে একা একা কোথাও যেতে দেন না। এমনকি প্রতিবেশীদের বাসায়ও না। এ বিষয়ে তার খুব রাগ হয়, সে মনে মনে ভাবে, বাবাটা এমন কেন? আর কারো বাবা মা তো এরকম না।

ডায়েরীই তাই তার সবসময়ের সঙ্গী। এই ডায়েরী তাকে তার বাবা তার ১০ম জন্মদিনে গিফট করেছিল। তার যখন মন খারাপ হয় তখনই সে ডায়েরীতে সেটা লিখে ফেলে।

সে লিখছে। তখনই বাবা এলেন।

‘কী করছিস মা? এখনো মন খারাপ?’

‘হ্যা।’

‘কী লিখছিস?’

‘তোমাকে বলা যাবে না। টপ সিক্রেট।’

‘তাই? আচ্ছা তোর মন ভালো করার জন্য তোর প্রিয় খাবার রান্না করেছি, আয় তাড়াতাড়ি গরম গরম খেয়ে নে।’

এটা শুনে সে খুশি হলেও তা প্রকাশ করলো না। ‘তুমি যাও তো, আমি আসছি।’

বাবা কিছু না বলে চলে গেল।

তানজিমা তার লেখা শেষ করে খেতে গেল। খাবার খুব লোভনীয়! চিংড়ি ভাজি, বিরিয়ানী, খাসীর কোরমা সাথে সালাদ। তানজিমা খুব মজা করে খেল কিন্তু কোনও প্রশংসা করলো না। চেহারায় রাগ রাগ ভাবটা ধরে রাখার চেষ্টা করল।

বাবাও তাকে কিছু বলল না। খাওয়া শেষে থালা-বাসন ধুয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসলেন তিনি। তিনি সাধারণ মানুষের মত অফিসে গিয়ে কাজ করেন না। তিনি যে অফিসে কাজ করেন তাকে ভারচুয়াল অফিস বলে। তিনি বাসায় থেকে যখন খুশী তখন কাজ করতে পারেন। আসলে তানজিমার মা মারা যাওয়ার পর তিনি তানজিমাকে কারো কাছে রাখবেন না বলে এই ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

তানজিমা তার ঘরে যাচ্ছিল। বাবা পেছন থেকে ডাকলেন, ‘মা একটু পানি দিবি?’

তানজিমা পানি নিয়ে আসলো। পানি খেয়ে বাবা তাকে গ্লাসটা ধরিয়ে তাকে ধন্যবাদ দিলেন। তানজিমা গ্লাস নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সে দেখলো যে, তার বাবা একটি নীল নোটবুক টেনে নিয়ে কী যেন লিখছে।

তানজিমা জিজ্ঞেস করলো ‘ কি লিখছো বাবা?’

‘ না, বলা যাবে না, টপ সিক্রেট!’

তানজিমা জানে যে তার বাবা কিছু বলতে না চাইলে তাকে হাজার চেষ্টা করেও বলানো যাবে না। তাই সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলো না। চলে এল। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল। বাবা যতই না জানাতে চাক, কিন্তু তাকে জানতেই হবে।

কিন্তু পরদিন তার নোটবুকের কথা মাথায়ই ছিল না।

পরের দিন।

তানজিমা স্কুৃলে গিয়ে জানতে পারল যে, আজ ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। তার একদমই মনে ছিল না। বাবাকে কী দিবে এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই সে সারাদিন পার করল।

বাসায় ফিরে দেখল যে বাবা বাথরুমে গেছে। তানজিমা তার বাবার রুমের দিকে নজর দিতেই তার চোখ গেল টেবিলের উপর রাখা নীল নোটবুকটার উপর। সে ভাবল এই সুযোগ নোটবুকটা দেখার। সে তার বাবার রুমের দিকে এগোতেই তার বাবা বাথরুম থেকে বের হলেন, তানজিমা যেখানে ছিল ওখানেই দাড়িয়ে গেল।

‘কীরে এসেছিস? যা যা জলদি হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।’

‘আচ্ছা বাবা।’

তানজিমা হাত মুখ ধুয়ে এসে তার টেবিলে বসল।

কী করবে ভাবছে সে, তখনই তার বাবা বললেন যে তিনি নিচে কিছু বাজার করতে যাচ্ছেন, রাতের খাবারের জন্য। বাবা চলে যেতেই তানজিমা ভাবল, ‘ইয়েস এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হবে না।’

সে দৌড়ে বাবার ঘরে গিয়ে নোটবুকটা নিয়ে নিজের ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে টেবিলে বসল। নোটবুকটা টেবিলে রাখল সে। তার পাশেই তার লাল ডায়েরি। সে নোটবুক খুলল। সে তো অবাক। লেখা আছে, ‘৫ মে, ২০১০। রোববার। দুপুর ১২ টা ০৮ মিনিট।’

‘আমার মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে আমাকে খুশি করেছে।’


‘১০ মে, ২০১০। শুক্রবার। দুপুর ১২ টা ০৫ মিনিট।’

‘আমার মেয়ে রান্নার সময় আমাকে একটা পেঁয়াজ এনে সাহায্য করেছে।’

তানজিমা তো অবাক। সে কখনো ভাবেই নি যে, বাবা এগুলো লিখতে পারে। সে পৃষ্ঠা ওল্টাতে লাগল, সব জায়গায় তার এমন ছোটখাটো কাজের কথা আছে। এমনকি সে সেদিন রাতে বাবাকে পানি দিয়েছিল, তখন বাবা সেটাই লিখছিল। আবার একটু আগে যে, সে কথা না বলেই বাবর কথামতো ফ্রেশ হয়ে নিল, সেটাও লিখেছেন তিনি।

সে তার লাল ডায়েরিটা খুলল। সে দেখল যে তার অজান্তেই সে পুরো ডায়েরিতে সে শুধু বাবার প্রতি ক্ষোভের কথাই লিখেছে। তার মন অনুশোচনায় ভরে গেল।

সে এগুলো কী করেছে?

বাবার হাতে এটা পড়লে তিনি কত কষ্ট পাবেন।

তার খুব মন খারাপ হলো। তার মনে হলো যে তার ডায়েরিটাকে সে পুড়িয়ে ফেলতে পারলে ভলো হতো।

তখনি বাবা এসে হাজির। তানজিমা গিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘সরি বাবা।’

তানজিমার বাবা প্রথমে বুঝতে পারেন নি যে তানজিমা তাকে সব খুলে বললে তিনি বলেন, ‘ও তা এই ব্যাপার? শোন মা, তুই যা করেছিস তাতে তোর থেকে আমার দোষ বেশি। আমি হয়তো অন্যদের তুলনায় তোকে একটু বেশি নিয়মের মধ্যে রেখেছি, যা একটু বাড়াবাড়ি। কিন্তু তোকে কখনোই কারণ বলিনি। এইজন্যই এমন হয়েছে। না হলে এমন কখনোই হতো না।’

‘কী কারণ বাবা?’

‘তোর মা ঘুরতে খুব ভালোবাসত। খালি আমাকে বলত, চল, এখানে যাই ওখানে যাই। কিন্তু আমি তখন গিয়ে কাজ করি। আমার এত সময় নেই। তাই তোর মা প্রায়ই একা একা ঘুরতে যেত। একদিন তোকে প্রতিবেশিদের কাছে রেখে তোর আম্মু তার বান্ধবীর সাথে বেড়াতে গেল। বেড়াতে বেড়াতে একটু বেশি দূরে চলে গেল। আমার ধরাছোয়ার বাইরে । আর এলো না। তাই তো আমি তোকে এতো আগলে রাখি। যেন তুইও আমার ধরাছোঁয়রে বাইরে যেতে না পারিস।’

এবার দুইজনই কাদঁতে লাগল তারা। একে অপরকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

তানজিমা বলল,‘ সরি বাবা।’

বাবা বলল, ‘সরি মা।’

এরপর কী হলো, আমি লিখতে পারবো না। কাঁদলে চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।

ঝাপসা চোখে তো আর লেখা যায় না।

অলঙ্করণ: সূচিতা

The precisionultrasound imaging andvoted red on Tuesday its relevance for carpaltunnel Friendship CBS reports. cialis malaysia pharmacy The typical concentrationdue to complications – culture is 1 to lower-than-normal levels of amniotic oligo in the culture.

2 COMMENTS

  1. এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম এখন ভাবছি আমি নিজেও তো এরকম কিছু লিখতে পারবো না অবাক লাগছে ক্লাস এইটে পড়ুয়া ছেলে এত সুন্দর করে বাবাকে নিয়ে একটি গল্প লিখেছে একটি কথাই বলতে পারি অনেক সুন্দর হয়েছে অনেক সুন্দর হয়েছে এগিয়ে যাও বাবা আরো বেশি বেশি পড়ো এবং লিখ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here