বাবার সাথে পাহাড়ে, আহারে!

আমার বারো বছরের জীবনে, আমি আর বাবা অনেক দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গিয়েছি। কিন্তু তার মধ্যে শীতাকুণ্ড ভ্রমণ বিশেষভাবে মনে আছে। হয়তো মা ছিলো না বলে, হয়তো সেবারই প্রথম বাবার সাথে অন্যরকম এক বন্ধুত্ব হয় বলে, হয়তো প্রথম পাহাড় দর্শন বলে। দুই বছর আগের কথা, কিন্তু মনে হয় এই তো সেদিন!

পাহাড় দেখবার স্মৃতিটা জ্বলজ্বলে হয়ে আছে। যদিও বেড়াতে যাবার উপলক্ষটা ছিল সূচনা খালার বিয়ে। চট্টগ্রামে যাবার আগের দিন রাতে আমরা প্রথমে যাই বনশ্রীতে নানুবাসায়। মামী আমাকে নিজে হাতে আমার প্রিয় হাঁসের মাংস দিয়ে ভাত খাইয়ে দেন। খাবার পরে বড় মামা বললেন সবাই ঘুমিয়ে পড়, কারণ ভোরে গাড়ি আসবে। কিন্তু বাবা বললেন, কে খেলতে চাও হাত তোল। দেখা গেল কেও ঘুমাতে চান না, সবার শেষে হলেও সবচাইতে লম্বা করে হাত তুললেন বড় মামা। আমরা সবাই লডু, কার্ড, দাবা এসব খেললাম। আমার বাবা খুব ভাল দাবা খেলেন। বরাবরের মতন বড় মামা বাবার কাছে হেরে গেলেন। হেরে গিয়ে মামা বললেন আসলে হয়েছে কি , ভোরে ওঠার টেনশানে আমি খেলায় ঠিক মনযোগ দিতে পারছিলাম না। মামার কথায় ঘর ভর্তি সবাই খুব জোড়ে হেসে ওঠে।

যাই হোক রাত দুটোয় বিছানায় গিয়ে ভোর পাঁচটায় উঠে পড়ি। তৈরী হয়ে আমরা অপেক্ষা করতে করতেই গাড়ি চলে আসে। ঠিক ছটায় আমাদের গাড়ি স্টার্ট নেয়। গাড়ির সামনে আমি আর আমার মামাতো ভাই সমুদ্র বসি। যদিও আমার খুব ইচ্ছে করছিলো বাবাকে নিয়ে সামনে বসতে কিন্তু আমি জানতাম ভাইয়া তাতে খুব মন খারাপ করবে। তাই আর ‍কাউকে বলিনি।

বাবার কাছে না বসতে পারলেও বাবার সব কথা হাসি মজা সব কিছুর শেয়ার পাচ্ছিলাম। ঐদিনের আগে বাবাকে অত হাসিখুশি আমি আর কখনো দেখিনি। বাবা এমনকি মামা,মিমিদের সাথে গান গেয়েছিলেন।

কিছুদূর যাবার পর অমরা পথে একটি সুন্দর রেস্টুরেন্টে নামলাম নাস্তা খাবার জন্য।ওখানে আমাদের আগেই আমার আরও দুই মামা, মিমি আর মামাতো ভাইবোন এসে পড়েছে। ভ্রমনের আনন্দও দ্বীগুণ হয়ে গেল। এবার আমি বাবার পাশে বসে নাস্তা খেলাম। বড় মামা মানা করলেও, বাবা আমাকে একটু চা খেতে দিল।

চা খেলে নাকি ঘুম চলে যায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো চা খেয়ে গাড়িতে উঠে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। আমি আর সমুদ্র ভাইয়া কতক্ষণ মোবাইলে গেমস খেললাম। তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারিনি। যখন ঘুম ভাঙলো শুনতে পেলাম আমারা সীতাকুণ্ডে পৌঁছে গেছি। সবাই তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে নামলাম। নেমেই দেখতে পেলাম সামনে সুন্দর একটি ভবন খুব জমকালো লাইটিং করা। বুঝতে পারলাম এটাই সূচনা খালামনিদের বাড়ি। আমি আর সমুদ্র ভাইয়া দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করলাম। তারপর বিয়েতে খুব মজা করলাম। কিন্তু সে গল্প আর একদিন করবো। আজ আমি শুধু বাবার সাথে পাহাড় দেখার গল্পই বলবো।

বিকেল বেলা আমরা সবাই দল বেঁধে পাহাড় দেখতে বের হলাম। যদিও রাস্তা থেকে একটু দূর দিয়ে গায়ে গায়ে লাগানো অনেক ছোট ছোট পাহাড়। কিন্তু সবাই বলছিল চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা। খুব নাকি সুন্দর! আমারও খুব দেখার ইচ্ছে হচ্ছিল। গাড়িতে সবাই খুব চুপচাপ থাকলো। বুঝতে পারছিলাম, ভেতরে ভেতরে সবাই সেই বিশাল পাহাড়ের সৌন্দর্য় উপভোগের জন্য ব্যাকুল। দূর থেকেই আমরা চন্দ্রনাথ দেখতে পেলাম। সবাই গাড়িতে সরব হলো। গাড়ি থামতেই আমরা দে ছুট।

প্রথমে সিঁড়ি ছিল, সেটুকু সহজেই উঠলাম। উপড়ে একটি মন্দির তাতে গেরুয়া বসনে কয়েকজন উপাসক। মন্দির পাহাড় সবুজে ভরা চারপাশ পরিষ্কার আকাশ সবকিছু দেখে আমার যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। আমি দৌড়ে দৌড়ে এগুচ্ছিলাম। কোথা থেকে যেন বাবা ছুটে এসে আমার হাত ধরলেন। আস্তে করে বললেন, ‘আস্তে!’

এরপরের রাস্তা অবশ্য আস্তেই যেতে হয়েছিল। কারণ ঝর্ণার কাছের পথটুকু কর্দমাক্ত আর পিচ্ছিল ছিল। আমি আর নানাভাই হাঁটতেই পারছিলাম না। বাবা কোথা থেকে যেন দুটো লাঠি নিয়ে এলো। সেই লাঠি আর বাবার হাত ধরে অবশেষে ঝর্ণার কাছে পৌঁছুলাম। সেখানে খুব মজা করছিল মামারা। একজন আর একজনকে পানি ছিটাচ্ছিল। খালামণি আমাকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিল। বাবা খালামণিকে বকা দিল। এরপরেই হলো সত্যিকারের মজা। খালামণি বাবাকে ভিজিয়ে দিলেন। তখন সবাই সবাইকে পানি ছিটাতে থাকলাম। এমনকি বাবা নিজেই আমোকে পানি ছিটিয়ে দিলেন। আমিও বাবাকে পানি ছিটিয়ে দিলাম। এই ভীষণ মজার মধ্যে কর্কশ সুরে নানাভাই এর মোবাইল বেজে উঠলো্। বেড়ানোর সময় শেষ। এতক্ষণে সবার খেয়াল হলো সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।

সমুদ্র ভাইয়ার সাথে বেট ধরে পাহাড় থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আমি পায়েরে উপড় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলাম না্। থামতে চাইলেও থামতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল পড়ে যাব। আবারও বাবা কোথা থেকে যেন জাদুমন্ত্রে উড়ে এসে আমার হাত ধরলেন। আস্তে করে বললেন, ‘আস্তে।’ কারণ বাবা কখনোই আমার সাথে জোরে কথা বলেন না। বাবার হাত ধরে পাহাড় থেকে নামতে নামতে মনে হচ্ছিল, আমার কোথাও কোন ভয় নাই।

It is strongly advised that you do not buy these medications online, but instead buy them in a pharmacy with a medical prescription. cialis in malaysia Medications sold online are often counterfeit drugs that carry a number of risks to your health.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here