মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস জনযুদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

জনযুদ্ধ: প্রথম কিস্তি

[এই উপন্যাসের কাহিনী, ঘটনাবলি, স্থানীয় মানচিত্র ও সকল চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তবে বাংলাদেশের মহন মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের পটভূমিতে সৃজিত বলে ঐতিহাসিক কাল ও কাল-পরিক্রমা, চরিত্রাবলি, চেতনা, মূল্যবোধ, মূল ঘটনাপ্রবাহ, ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যাবলি ও জীবনচিত্রের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার সর্ব্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে উপন্যাসের কোনো কোনো উপাখ্যান ইতিহাসের পাতায় লেখা বাস্তব ঘটনার সাদৃশ্য মনে হতে পারে। সৃজনের বিভিন্ন পর্বে এই সাদৃশ্য লেখকের কাছে অনিবার্য ছিল। এর কোনো দায় থাকলে লেখক তা স্বীকার করে নিচ্ছে।]

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

এক।

মে ২৩, ১৯৭১। ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭৮। ২৯ জামদিউস সানি, ১৩৯১

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

অমাবশ্যার আকাশে চাঁদ থাকে না। আজ তারাও নেই। দুদিন ধরেই চলছিল রৌদ্র-মেঘের কানাকানি । সাথে প্রচণ্ড গরম। সন্ধ্যায় উঠল ঝড়। সাথে তীব্র বৃষ্টি। এখনো ঝরছে টিপ টিপ।

সেই সন্ধ্যা থেকে অবিরাম চলছে ওরা।

হালট। ক্ষেত। তালবন। আল। খাল। ঝোড়। জঙ্গল।

কোথাও প্যাঁচ প্যাঁচ কাদা। কোথাও বৃষ্টি-জমানো জল। কোথাও পিছলে পড়া এঁটেল মাটি। কোথাও মসৃন ধবধবে সাদা- বেলে মাটির পথ।
কত কিছুই না পেরিয়ে এল। তবুও থামার যেন জো নেই ওদের ।

চলার শুরুতে অনেক কথার লেনাদেনা ছিল, শোধ হয়ে গেছে বলে এখন আর কারো মুখে কোনো কথাও নেই। চারপাশে শুধু অন্ধকার। অন্ধকারের গা জুড়ে নীরবতার স্যাঁতস্যাঁতে অনুভব।

ওরা পাঁচজন। একজন স্থানীয় থানার সাব-ইনেস্পেকটর ওবায়দুল হক। একজন এ্যাসিসট্যান্ট সাব-ইনেস্পেকটর হামিদুর রহমান। দুইজন সেপাই, রিসালত মিয়া ও রইস উদ্দিন। আর শেষ জন পনের-ষোল বছরের কিশোর, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী, তথ্যবাহক রাসেল। সে এই দলটির পথপ্রদর্শক এবং আপাতত নেতা।

রাসেল ছাড়া সবার হাতেই অস্ত্র। রিসালত আর রইসউদ্দিনের হাতে একটি করে বন্দুক। ওবায়দুল আর হমিদুরের কাছে স্ট্যান্ডগান। চরজনেরই কাঁধে কোমরে ঝোলানো গুলির বেল্ট। রাসেলের হাতে গুলির ব্যাগ।

চলতে চলতে মুসুরকান্দি বাঁশের সাঁকোর কাছে এসে দাঁড়ায় রাসেল। পেছন ফিরে দলটিকে একনজর দেখার চেষ্টা করে। অন্ধকারে কিছুই দেখতে পায় না বলে অপেক্ষা করে।

একটুক্ষণ পরেই ওরা একেবারে গায়ের উপরে এসে পড়ে।

‘আস্তে।’ চাপা কণ্ঠে বলে রাসেল।

দাঁড়িয়ে পড়ে সবাই।

‘সব ঠিক আছে তো স্যারেরা?’

‘হ্যা। সব ঠিক। কি বলেন হামিদ সাহেব।’ চাপা কণ্ঠে বলে এসআই ওবায়দুল।

‘জ্বি স্যার। একদম ঠিক। কিন্তু অন্ধকার আর কাদাজলে হাঁটাই তো মুশকিল হয়ে পড়েছে। ঠিক সময় পৌঁছাতে পারব তো?’ তার কণ্ঠও বেশ চাপা।

‘আমরাও সন্দেহ হইতেছে স্যার। সুময়ের সাথে সাথে কোই অন্ধকার চোখে সয়া আইব, তা না, যত হাঁটতাছি তত অন্ধকার। এইহানে তো এক্কারে পিচ কালা। বিষয়ডা কি?’ বলে রইস উদ্দিন।

‘বটবৃক্ষের ছায়া যে…’, রাসেল উত্তর করে, ‘মুসুরকান্দার বটতলা এইটা।’
রাসেলের কথায় সবাই অন্ধকারে উপরের দিকে তাকায়। আজ মেঘের রঙ ধূসর কালো বলে এক-আধটু ছিটে-ফোটা আকাশও দেখা যায় না। শুধু অন্ধকার, শুধু কালো।

‘এখন কি টর্চ জ্বালান যায়?’ জিজ্ঞেস করে সেপাই রিসালত।

‘না। পাশের গ্রামে রাজাকার বাহিনী বানাইছে জল্লাদ জাহিদ মিয়া। এখনো ভয় আছে। উল্টাপাল্টা গুলি মাইরা একটা গণ্ডগোল পাকায়া দিব।’

রাসেলের কথায় সবাই ছুঁয়ে ছুঁয়ে অস্ত্রের অস্তিত্ব নিরিখ করে নেয়।

‘এই তো জেলা বোর্ডের রাস্তা। সাঁকো পার হয়্যি আমরা যাব এই দিকে।’

বলে রাসেল কোন দিকে যে হাত তুলে দেখায় তা আর বুঝে উঠতে পারে না কেউ। রাসেল তার ভুল বুঝতে পারে। সে সংশোধনের জন্য বলে-
‘আমরা যাব ডাইনে। এই গ্রামটা বনগাঁ। তারপর রসুইকান্দি। রসুইকান্দি থিকাই বলতে পারেন আমাগের এলাকা শুরু। তখন যেমনে খুশি তেমনে চলা যাবি।’

‘আর আমাদের গন্তব্য, সে কতদূর রাসেল?’ প্রশ্ন করে এসআই ওবায়দুল হক।

‘এই তো স্যার রসুইকান্দির নদী পার হইলেই দিলালপুর। গ্রামের মাথায় স্কুল, স্কুলেই থাকবে সবাই।’

‘চল তবে।’

‘চলেন। কিন্তু সঁকোটা কি দেখফার পারতিছেন?’

‘কোথায় সাঁকো। আমি তো কিছু দেখি না।’ বলেন এসআই।

‘আচ্ছা। আমি সবারি দেখায়ে দিতিছি।’ বলে সে হাত ধরে ধরে সাঁকোর হাতল ধরিয়ে দেয়।

‘ভিজে কিন্তু পিছল হয়্যি আছে। খুব সাবধান।’

অনুমানে হাতে আর পায়ে সাঁকোর বাঁশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে অস্ত্র আর গুলি সামলে নিকষ কালো অন্ধকারে এগিয়ে যেতে থাকে ওরা।

আরো পড়তে পারেন: আফরোজা

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

দুই।

অন্ধকারের রঙ যদি হয় কালো, তবে উৎকণ্ঠার রঙ কি?

কালি পড়া চিমনির ডিম করা হারিকেনের নিষ্প্রভ লালচে আলোর আভায় এএসআই হামিদুরের স্ত্রী বেগম হায়াতুন্নেসার উৎকণ্ঠিত মুখাবয়ব থেকে তার একটা আভাস পাওয়া যেতে পারে।

প্রতি মুহুর্তে প্রিয়তম স্বামী হামিদুরের মৃত্যুর আশঙ্কা তাকে ভীত, উদভ্রান্ত ও অস্থির করে তুলছে।

সন্ধ্যায় ফিরে আসার কথা ছিল হামিদুরের। তাদের নিরাপদ কোথাও রেখে তবে তার যাবার কথা ছিল উদ্দিষ্ট স্থানে। তবে এও বলা ছিল যে, যদি সন্ধ্যায় আসতে কোনো বাধা দেখা দেয় তবে অবশ্যই আসবে রাত পোহাবার আগে।

তবে রাত পোহাবার এখন কত দেরি?

দৃষ্টি যতটুকু সম্ভব তীক্ষ্ণ করে হায়াতুন্নেসা খুঁটিতে ঝোলানো দেয়াল ঘড়িটির দিকে তাকায়। টিক টিক, টিক টিক। আবছায়া অন্ধকারে ধাতব পেন্ডুলামের দোলনটুকুই দেখা বা অনুভব করা যায় শুধু।

শেষ কখন যে ঘণ্টা বাজিয়েছিল ঘড়িটি?

ক’বার বেজেছিল? এগারো? বারো? নাকি এক? নাকি অন্য কোন সংখ্যা? কিছুই মনে করতে পারে না সে। কিন্তু মনের মধ্যে দোলায়মান সেই প্রশ্নগুলো ফিরে আসে আবারো।

আরো পড়তে পারেন: পূর্বক্ষণ

তারা কি পরিকল্পনা মত থানা থেকে ঠিকঠাক বেরুতে পেরেছিল?

ধরা পড়ে যায় নি তো?

গুলি করে মেবে ফেলে নি তো ওসি কাদের?

সন্ধ্যার পর থেকে বাইরের প্রতিটি শব্দের প্রতি কান খাড়া করে রেখেছিল হায়াতুন্নেসা। না। গুলির কোনো শব্দ সে পায় নি।

তবে কি বন্দী হয়েছে ওরা?

থানা থেকে না হয় ঠিকঠাক বেরই হল, পথেও তো ধরা পড়ে যেতে পারে।

কত কত লোক রাজাকারে নাম লিখাচ্ছে। ট্রেনিংয়ে যাচ্ছে। কত ক্যাম্প হচ্ছে।

তাতে কি? স্বাধীনতার পক্ষের লোকই তো বেশির ভাগ। তারা নিশ্চয়ই পথে পথে সাহায্য করবে ওদের।

যদি জাহিদ রাজাকারের খপ্পরে পড়ে যায়?

শোনা যায় সে এক মূর্তিমান বিভীষিকা। ধড় থেকে মুণ্ড কেটে মানুষকে হত্যা করে। সেই মুণ্ড বর্শার গেঁথে বাতাসে ঘূর্ণি লাগায় । খেলা করে। উল্লাস করে। এই ক’দিনের মধ্যেই রাজাকারের জল্লাদ হিসাবে সে এদিকে বেশ কুখ্যাতি কুড়িয়েছে।

চিৎকার করে কেঁদে উঠতে ইচ্ছে করে হায়াতুন্নেসার। কিন্তু সে জানে, কান্নার কোনো সুযোগ নেই তার। তার চারপাশেও অন্ধকারে ওৎ পেতে বসে আছে মৃত্যু। এই নিষ্প্রভ আলোর ছোট্ট বৃত্তে চারটি সন্তান নিয়ে যেনবা সেও মৃত্যুরই প্রহর গুনে চলেছে। সে বুঝতে পারে, যে-মূহুর্তে রাজাকারের দল জানতে পারবে যে, হামিদুরেরা মুক্তি বাহিনীর সাথে মিটিং করতে থানা ত্যাগ করেছে সে-মূহুর্তেই সদলবলে বেরিয়ে পড়বে তারা। হন্যে হয়ে খুঁজে বের করবে দলত্যাগী সদস্যদের পরিবারগুলিকে। আর নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে মেটাবে প্রতিহিংসার জ্বালা।

না। এই অবোধ শিশুগুলোকে সে কোনোভাবেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে না। তাকে যে করেই হোক এখান থেকে পালাতে হবে। ক’দিন ধরেই থানা কোয়ার্টারের পেছনে দিকের বাউন্ডারির কাঁটা তারের বেড়া কেটে, ভেঙে, বাঁকিযে সে একটা ফোকর তৈরি করে রেখেছে। সেই ফাঁক গলে সে নিশ্চয়ই বাচ্চাগুলোকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে।

উত্তেজনায় উঠে পড়তে গিয়ে হায়াতুন্নেসা টের পায়, তার কোলে থাকা দুই বছরের শিশু কন্যা জাহানারা কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে।

ঘুমন্ত জাহানারাকে শুইয়ে দিতে দিতে হায়াতুন্নেসার উত্তেজনা খানিকটা কমে আসে। এর মধ্যে সাইফ উল্লাহ আড়মোড় ভেঙে উঠে বসে। খাট থেকে নেমে পড়তে যায় সে। বড় মেয়ে জান্নাত তাকে ধরে ফেলে।

‘কিরে। কি হলো।’ চাপা কণ্ঠে বলে জান্নাত। মায়ের উৎকণ্ঠা তার মধ্যে ভালভাবেই সংক্রমিত হয়েছে বোঝা যায়।

‘পানি খাব।’

‘দাঁড়া আমি দিচ্ছি।’

জান্নাত খাট থেকে নেমে ঘরের কোনায় রাখা কলসি থেকে পানি আনতে যায়। অন্ধকার জমে কালো হয়ে আছে সেখানটা।

‘সাবধানে মা। দেখিস..’

‘আচ্ছা মা।’

সাইফ পানি খেতে খেতেই ঘুম ভেঙে উঠে বসে মেজো মেয়ে জিনাত আরা।

‘জিনাত…’

ঘুমকাতুরে মেয়েটার জেগে ওঠা দেখে বেশ অবাক হয় হায়াতুন্নেসা। মেয়েটা যেখানে-সেখানে যখন-তখন কাত হতে পারলেই দেয় ঘুম। একবার ঘুমিয়ে পড়লে আর উঠতে চায় না। এগিয়ে যায় মা ওর দিকে।

‘কিরে মা…’

‘মা বাইরে যাব’

‘ওরে আমার লক্ষ্মী মা। সেজন্য ঘুম ভেঙে গেল।’ একটুখানি হাসেনও হায়াতুন্নেসা।

‘হুম…’

‘আচ্ছা আস আমার সঙ্গে।’

বলে হায়াতুন্নোসা হাত ধরে জিনাতকে ঘরের এক পাশে নিয়ে যান।

‘এখানে বসে করে ফেল মা।’

বেশ অবাক হয় জিনাত। মায়ের আহ্বানে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে সে।

‘কিচ্ছু হবে না মা, করে ফেল।’

‘আমি পারব না’

ছেলে মেয়েদের কত যত্ন করে এসব শিখিয়েছে হায়াতুন্নেসা। কোন কাজটা কোথায় করতে হবে। কোনটা করা যাবে। কোনটা করা যাবে না। এখন নিজেই তা ভাঙতে বলছে।

‘এখন তো বাইরে যাওয়া যাবে না মা।’


আসলে হায়াতুন্নেসা দরজা খুলতে খুব ভয় পাচ্ছে। মনে হচ্ছে, দরজার ওপাশে অন্ধকারে মুখ হা করে বসে আছে মৃত্যু নামের বিশাল অজগর। দরজা খোলা মাত্রই গোগ্রাসে গিলে খাবে তাদের।

‘আমি পারব না মা। আমাকে দরজা খুলে দাও। এই যে টুপ করে যাব আর আসব।’

ঠিক তখনই থানার দিক থেকে একটা গুলির শব্দ শোনা যায়।

মেয়ের বলার ভঙ্গি দেখে খুব করে হাসি পায় হায়াতুন্নেসার।

প্রিয়তমা কন্যা জিনাতকে ঝটকা টানে নিজের সাথে জাপটে ধরে, টেনে খাটের কাছে চলে আসে হায়াতুন্নেসা।

‘কেউ কথা বলবা না। একদম চুপ।’

পর পর আরো দু’ট গুলির শব্দ হয়।

‘মাটিতে শুয়ে পড় সবাই।’

বলে হায়াতুন্নেসা সবাইকে টেনে নিয়ে উপুর হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়ে।

কোথাও থেকে আর কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায় না।

দ্বিতীয় কিস্তি পড়ুন: জনযুদ্ধ ২

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

I think your site is great. Truly loads of useful tips. https://www.viagrasansordonnancefr.com/ As a Newbie, I am permanently searching online for articles that can aid me.

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here