মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ ২

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ ২

জনযুদ্ধ: দ্বিতীয় কিস্তি

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

প্রথম কিস্তি পড়ুন: জনযুদ্ধ

তিন

‘তোমারে না বলছি, আমার খাবার জুন্যি অপেক্ষা করবা না। এই যে তোমারে অনাহারে রাইখে খাবানাকছি, তা কি আমার ভাল্লাগতিছে। বলি যে, আমার সাথে বস, তাও বসফা না।’

কথার মাঝেই আমেনা বেগম মাথার মুড়োটি জাহিদের পাতে তুলে দেয়।

‘আরে কর কি, কর কি। এ খাবার কি সোমায় আছে নাকি আমার। এ তুমি খায়ো। তোলো… তোলো।’

দু’বার বলার পরও আমেনা সে কথায় কান দেয় না। অগত্যা জাহিদ মুড়োর ঘাড়ের কাছ থেকে এক টুকরো মাছ তুলে মুখে দেয়।

‘খানা-খাদ্যের চিন্তা করবার সুযোগ কই আমেনা বেগম। দিনকে দিন অবস্থা খারাপ হতিছে। তুমি তো বুজতিছোই। তুমারে আর কি কব। পরথমে পোলাপানগরে বাবা-সোনা কয়ে বুলাইছি। তারপর ধমক দিছি। তারপরে কল্লা কাটিছি। তারপর কল্লা কাইটে পরদরশনি করিছি। তবুও তো ঠেকাতি পারতিছি না…’

কথাগুলো এত নির্লিপ্তভাবে বলে জাহিদ, বিষ্ময়ে-ভয়ে আমেনা বেগমের দম বন্ধ হয়ে আসে। এ এক অন্য জাহিদ। অন্য মানুষ। এই মানুষটা তার নয়। এই মানুষটাকে চেনে না সে। আজ বার বছর ধরে আমেনা বেগম ঘর করছে জাহিদ খুনকারের। ভেবেছিল তার অন্দর-বাহির সব তার কাছে খোলা। নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে এই মানুষটার ভাল-মন্দের সাথে তার জীবনটাকে বেঁধে নিয়েছিল সে। কিন্তু আজ কটা মাস ধরে সে অন্য এক জাহিদকে আবিষ্কার করছে।

‘…আইজ কাজী বাড়ির দুইজন যাচ্ছে তো কাইল মোল্লা বাড়ির তিনজন। এন্ডিয়া যাবি? টেরনিং নেবে’ বলতেই থাকে জাহিদ। ‘…দ্যাশ স্বাধীন করবি? পাগল আর কারে কয়। তোমার নিতা, আমার নিতা, শেখ মুজিব, শেখ মুজিব? আরি? শেখ মুজিব তো পাকিস্তানের জেলে, সরকারের কব্জায়। যেকোনো দিন ঠুস কইরে দিলি কে সরকাররে ঠেকাবি। আর স্বাধীনতা? সে মাইনষ্যিরে আর কিভাবে দ্যায়? খাচ্ছ, দাচ্ছ। যা বলবার নয় তাই বলতি পারতিছ, আর কি।’

এটুকু বলে জাহিদ তাকায় আমেনা বেগমের দিকে।

‘…তবে ঠেকপে, নিশ্চয়ই ঠেকপে। সে ব্যবস্থাও নেব।’ বলে থামে জাহিদ। তারপর হাসে।

‘আবার প্যাচাল পারতি শুরু করলাম। কি আর করব। মাইষ্যির কি আর ঘর বাইর কিছু থাকতিছে।’ বলে পাতে হাত ঝাড়ে।

‘এ আর এখন আমি খাতি পারব না আমেনা বেগম। রাগ হবা তুমি?’

আমেনা নিশব্দে চিলুমচিটা বাড়িয়ে দেয়। জাহিদ প্লেট ঠেলে চিলুমচিতে হাত ধোয়।

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

মাদুর ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে দু’হাতের পাঞ্জা বদ্ধ করে কাঁধ ঘুরিয়ে শরীরে এপাশে ওপাশে মোচর দেয় জাহিদ। হাই তোলে। আলনায় ঝোলানো পাঞ্জাবির পকেট থেকে সিগেরেটের প্যাকটটা বের করে। হারিকেনের আলোয় ধরে দেখে প্যাকেটটা। ‘কে টু’। ইংরেজি অক্ষর ‘কে’ এর পাশে সংখ্যা ‘টু’। নীলচে প্যাকেটের বেশির ভাগটা জুড়ে সাদা বরফে ঢাকা পর্বত শ্রেণি। কেটু জাহিদের জীবনের আভিজাত্য। ঠোঁটে চেপে ধরে ফস করে একটা সিগেরেট ধরায় জাহিদ।

পান বাড়িয়ে দেয় আমেনা বেগম।

‘আমেনা। খুব ভয় পায়া গ্যাছো, না? আরি অত ভয়ের কিছু নাই। পরিকল্পনায় কিছু ভুল করছিলাম, তাই ওরা উঠান পর্যন্ত আসতি পারছিল, এ্যাখন সব দিকি পাহারা। এলাকায় ঢুকপার সব ফুটায়, আমার দুইটা কইরা চোখ বসায়া দিছি আমি। আসপে তো মরবে।‘

কথা থামিয়ে হাসে জাহিদ। ‘কাছে আস। কাছে আস আমার আমেনা।’

এই কণ্ঠস্বর আমেনার চেনা। এই আদর, এই সোহাগ তার ভালবাসা। এই আহ্বানে সাড়া দিতে ইচ্ছে করে আমেনার। পা বড়াতে গিয়ে এক অচেনা দেয়ালে মাথা ঠুকে যায় আমেনার। ফ্যাল ফ্যাল করে সে তাকায় হারিকেনের আলো-আবছায়ায় জাহিদের অনুজ্জ্বল চোখে।

জাহিদ সিগেরেটে একটা দম দেয়। আমেনার মাথার উপর দিয়ে বলায়াকারে ধোঁয়া ছাড়ে। শেষ বলয়টা ছাড়ে আমেনার মুখের সামনে। সেটি বড় হতে থাকলে তার ভেতর ‍দিয়ে তাকায় আমেনার চোখে।

সিগেরেটের গন্ধ আমেনার খুব প্রিয়। জাহিদ জানে এই গন্ধ আমেনার ভেতরে একটা দুর্নিবার মাদকতা তৈরি করে।

‘তোমার মনের ভয়টা যে আমি ক্যামনে কাটাই। সারাদিন যেখানে যাই, যা কিছু করি, এই একটা চিন্তা সারাদিন খালি মাথার মদ্যি ঘুরপাক খাতি থাকে। তোমার মুখের সুন্দর বচন আমি ক্যামনে ফিরায়া দেই।… কাছে আস আমেনা।’

এবার আমেনাকে হাত ধরে টেনে বুকের মধ্যে নিয়ে আসে জাহিদ।

আমেনার উচ্চতা গড় মেয়েদের তুলনায়া বেশ লম্বা। এরকম লম্বা মেয়ে সচারাচার দেখা যায় না। তবুও তার মাথাটা এসে ঠেকে জাহিদের বুকের তলায়।

জাহিদ আঙুলের ফাঁকে সিগেরেট আর তালুতে প্যাকেট ধরা হাতে আমেনার গলা পেঁচিয়ে ধরে। অন্য হাতের আঙুলে আলতোভাবে আদরে আমেনার চুলে আঁচড় কাটে।

‘আমেনা।’

আমেনা সটান দাঁড়িয়ে থাকে।

জাহিদ মনে মনে বেশ ক্ষুণ্ণ হয়, অন্য সময় হলে আমেনা তাকে দুহাত পেঁচিয়ে জড়িয়ে ধরত। বুকে মুখ ঘষত। কিন্তু রাগ করে না জাহিদ। মমতা ভরে সে আমেনাকে আরো কাছে টেনে নেয়।

‘আমেনা?’

জাহিদের আশা ছিল এই মমতাভরা ডাক আমেনার হৃদয়কে ছুঁতে পারবে। সাড়া দেবে আমেনা। কিন্তু আমেনা একই ভাবে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

‘আমেনা, আমার বাবা-মা কেউ নাই। সন্তানাদিও নাই। এই পৃথিবীতে আপন বলতে তুমি। আমার যা কিছু সব তোমার। আবার তুমিই আমার শেষ আশ্রয়। জীবনের যত পাওয়া-নাপাওয়া, মান-অপমান সব তোমার কাছে আইসাই ভুলি। তুমি যুদি আমারে পর কইরে দেও, কোথায় দাঁড়াব বল। তুমি ছাড়া আমার যাবার জায়গা কোহানে।’

জাহিদের গভীর মমতা আর সমর্পণ আমেনার দ্বিধান্বিত মনের অর্গল আলগা করে দেয়। আপনা থেকেই দু’টি হাত ধীরে ধীরে উঠে এসে জাহিদকে জড়িয়ে ধরে। ডুকরে কেঁদে উঠে সে।

জাহিদ আরো কিছুক্ষণ, আরো মমতায়, আরো আদরে আমেনার চুলে আঙুল চালায়। তারপর হাত বদল করে সিগেরেটে টান দেয়। সিগেরেট ধরা হাতে আমেনার চিবুক ধরে মুখটা উপরমুখা করে। ধোঁয়া ছেড়ে দেয় আমেনার মুখের উপর। ফিসফিস করে বলে, ‘তোমার মন খারাপ থাকলি, আমার দুনিয়া আন্ধার হয়্যে যায় আমেনা।’

নুয়ে পড়ে জাহিদ আমেনার প্রশস্ত কপালে ঠোঁট চেপে ধেরে। ভেজা দুই চোখে চুমু খায়। নাকে নাকে ঘষে।

জাহিদের আদরে সোহাগে আমেনার মনের দ্বিধা আরো বড় হয়। আরো জোরে কেঁদে উঠে সে।

ঠোঁটে অশ্রুকণার নোনাস্বাদ জাহিদের শরীরে উষ্ণতার উত্তাপ ছড়ায়। হেলে পড়ে আমেনাকে পাঁজাকোলে তুলে নেয় সে।

‘আমারে তুমি দূরি ঠেইলো না আমেনা, আমি পাগল হয়্যি যাব।’

চুমোয় চুমোয় জাহিদ অস্থির করে তোলে আমেনাকে।

আমেনার শরীর তার মনের বিরুদ্ধে সাড়া দিতে শুরু করে। ভেতরে ভেতরে শরীরের এই নির্লজ্জতায় আমেনা খুব ক্ষুব্ধ হয়। কিন্তু কিছুতেই শরীরকে বাগে রাখতে পারে না সে।

জাহিদ তাকে পালঙ্কের উপর এনে শুইয়ে দেয়। দাঁড়িয়ে ফস করে আরো একটা সিগেরেট ধরায় জাহিদ। বসে শায়িত আমেনার পাশে। সিগেরেটে লম্বা টান দেয়। তারপর সরু ঠোঁটে ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করে আমেনার মুখের উপর।

অন্যদিন অন্য সময়ে এই ধোঁয়ার গন্ধ আমেনা প্রাণ ভরে উপভোগ করে। কিন্তু আজ তার দু’হাতে মুখ ঢাকতে ইচ্ছা করে। ইচ্ছা করে জাহিদের সাথে একটা দুরত্ব করবার। জাহিদ আর তার মাঝখানে একটা বিশাল উঁচু প্রাচীর তুলে দেবার।

কিন্তু সে হাত তুলবার আগেই জাহিদ নুয়ে পড়ে তার ঠোঁটের উপরে ঠোঁট নিয়ে আসে- ফু দিয়ে শেষ ধোঁয়াটুকু ছুড়ে দেয়। তারপর নিজের দু’ঠোঁটের গভীরে গেঁথে নেয় আমেনার দু’ঠোঁট। টেনে চুষে উত্তপ্ত করে তোলে।

কয়েক মুহূর্ত পর আমেনা জাহিদকে বাধা দেবার বদলে দু’বাহুতে গলা পেঁচিয়ে সজোরে আকর্ষণ করতে শুরু করে।

সংযুক্ত হবার পূর্ব পর্যন্ত জাহিদ-আমেনার এ এক দীর্ঘ পর্ব। আজও তার অন্যথা হয় না।

যখন যুক্ত হয় দু’জন, বরাবরের মতোই জাহিদ হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে। প্যাকেট খুলে একটা সিগেরেট নেয় ঠোঁটে। দেশলাই তুলে দেয় আমেনার হাতে।

বরাবরের মতোই আমেনা বারুদে কাঠি ঘষে আগুন ধরায়। আর আগুনে সিগেরেট ঠেকিয়ে দম দেয় জাহিদ।

আর তখনই দরজায় টোকা পড়ে।

‘কিরা?’

‘আমি ফজল ওস্তাদ। জরুরী খবর আছে।’

‘কাচারি ঘরে বস তুরা, আসফানাকছি।’

ততক্ষণে আমেনা বেগমের সকল উত্তাপ নিভে গেছে। লজ্জায় গ্লানিতে মরমে মরে যেতে থাকে সে। নিজের শরীরকে উদ্দেশ্য করে মনে মনে বার বার বলে, ‘ছি:’… ‘ছি:’…‘ছি:’…‘ছি:’…

কিন্তু জাহিদ থামে না। থামতে জানে না জাহিদ। সে তার সমস্ত উত্তাপ নিঃশেষ করে তবে ঘর ছেড়ে বের হয়।

আমেনা বিছানার উপর ব্যথায়, ঘৃণায় ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে।

আরো পড়তে পারেন: উপন্যাস- প্রেম অথবা হত্যা রহস্য

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

চার।

অন্ধকার এখনো ঘুটঘুটে, জমাট। পথের দুপাশে ঝোঁপ ঝাড় জঙ্গল। তারই শখায়-পাতায়-লতায় জড়াজড়ি করে পথের একটা ছাদ তৈরি করেছে। পথ যেন নয়, অন্ধকার গুহা।

বৃষ্টি থেমে গেছে বেশ অনেক ক্ষণ। এখন টপ টপ ঝরছে লতায় পাতায় জমানো জল।

রাসেলের নির্দেশে আবারো জারি হয়েছে ব্ল্যাক আউট- টর্চ জ্বালানো নিষেধ। তবুও বেলে মাটির সাদাটে পথে অনেকটা পথ হাঁটতে হাঁটতে হাঁটায় ছন্দ ফিরে পেয়েছে ওরা।

চলতে চলতে ওরা ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ থেকে ঝিঁঝিঁর ঐকতানের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। এখন আবার ঝিঁঝিঁর ঐকতানের মধ্যে দূরশ্রুত ব্যাঙের সম্মিলিত রব মিহিভাবে ফিরে আসতে শুরু করেছে।

এলাকাটি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ক্যাম্পের খুব কাছাকাছি বলে আছে সদা সতর্ক নজরদারিতে । আজকের জন্য আছে বিশেষ এ্যালার্ট। একটু এদিক সেদিক হলেই সৃষ্টি হতে পারে ভুল বোঝাবুঝির । আর তাতে লক্ষ ভেদ করতে ছুটে আসতে পারে গুলি।

চলতে চলতে যেনবা গুহার মুখে একখণ্ড আকাশের আভাস পাওয়া যায়। ছিঁড়ে ফুঁড়ে গেছে মেঘ। কোথাও কোথাও ফুটেছে দু’একটি তারা।

এখানে এসে পথটা নাক উঁচু করে উপর দিকে উঠে গেছে। গুহামুখের কাছাকাছি এসে দাঁড়ায় রাসেল। দাঁড় করায় সবাইকে।

‘দয়া কইরে সবাইকে একটু দাঁড়াতি হবি। এই এক মিনিট।’ বলে রাসেল। তারপর সে অদ্ভূত এক সুরে হাঁক দেয়-

‘ইরে আইলোরে শিয়াল- খাইলো…..’

‘ভয় নাই, মানুষ জাগে সদাই।’ ওপাশ থেকে পাল্টা হাঁক শোনা যায়।

দুপাশের সবুজ সংকেতের পর ওপাশ থেকে আবার হাঁক শোনা যায়।

‘….উইঠা আইস রাসেল। নয়ন আর বিমল আছি ইখানে।’

খাড়া পথের বাকিটা পেরিয়ে উপরে উঠে আসে ওরা। এখানে এসে পথটি আড়াআড়ি আরেকটি পথের পেটে ঢুকে থেমে গেছে। পথের মাথায় উঠে দাঁড়ালে এপাশে নদী কাজলার খাড়া ঢাল। ভরে উঠতে পারে নি বলে জল এখনো বেশ নিচে।

উঁচু পাড়ে দাঁড়িয়ে এবার টর্চের আলো জ্বালে রাসেল। ঢালু পথ বেয়ে নামতে নামতে আলোর বৃত্ত এসে ছুঁয় নদীর উছলে পড়া জল। তারপর দোলায়মান দু’টি নৌকা। দু’টি নৌকায় দুজন মুক্তিযোদ্ধা। রাসেল আলো নিভিয়ে দেয়। নৌকা থেকে একজন ডাকে

‘নাইমা আস রাসেল। সেই কোন সোমায় থিকা বইসা আছি তোমাগের জুন্যি।’

রাসেল পেছন দিকে পথের ঢালে আলো ফেলে ফেলে সবাইকে নিয়ে নেমে আসে।

‘তারা সবাই আসছেন তো?’ এবার অন্য একটি কণ্ঠ শোনা যায়।

রাসেল এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আগে এদের নৌকায় উঠতে সাহায্য করে।

‘আসেন স্যারেরা। সাবধানে উঠেন। ছোট্ট নৌকা। দুই নৌকাতি পার হতি হবি।’

‘কোনো সমস্যা নাই রাসেল…’ বলে ওবায়দুল। বলতে গিয়ে টের পায় কথা না বলতে বলতে কণ্ঠ যেন রুদ্ধ হয়ে আছে। কেশে সে গলা পরিষ্কার করে নেয়।

`…হামিদ সাহেব আমার সাথে আসুন। তোমরা উঠে পড় ওটাতে।’

সবাই উঠে পড়লে খুঁটি থেকে নৌকার দড়ি খুলে দিতে থাকে রাসেল আর সে-প্রশ্নের জবাব দেয়-

‘সবাই আসতি পারেন নাই। জল্লাদ জাহিদ রাজাকারগো দিয়া চর্তুদিকে নজরদারি করতিছে। তবে যারা আসফার তারা দু’এক দিনের মধ্যিই চলি আসবিয়েনে।’
বলে রাসেল বেশ কৌশলে দু’টি নৌকাকে দুহাতে ওপারের দিকে ঠেলে দিয়ে একটিতে উঠে বসে।

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস: জনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, muktijuddher Uponaas, muktijuddher golpo

Distral: I address you to express my appreciation for the time and attention you will give me today in the interview for the position of Logistics and Distribution Manager for Noises S. newzealandrx.com Manuel Rodríguez Santos firm.

Duromine pills are not sold in the USA. buy viagra online In the U.

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here