রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে বয়স কমানোর উপায়

A man is pulling the hour hand of a clock. Its a symbol of anti-aging activity. একজন মানুষ ঘড়ির ঘণ্টার কাটায় দড়ি বেঁধে টানছে। সময়কে থামিয়ে দিতে চাইছে। এটা আসলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে বয়স কমাবার প্রতীক।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে কি বয়স কমানো যায়?

প্রশ্নটা উদ্ভট। নয় কি? বয়স আবার কমায় কি করে? ধরা যাক, আমার বয়স ৫০ বছর। আমি কি আমার বয়সটা কোনো ভাবে ৪৯ করতে পারি? পারি না। কারণ আমার জন্মের তারিখ আমি কোনো ভাবেই পিছিয়ে দিতে পারি না।

কিন্তু আমরা জানি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করে যখন বয়স কমানোর কথা বলা হচ্ছে তার একটা অর্থ আছে। এটা নেহাতই কথার কথা নয়।

আমরা এখানে প্রথমে সে কথাটারই অর্থ বের করার চেষ্টা করব।

বিষয়টিকে আমরা আপাততঃ একটু অন্য দিক থেকে ভাবি।

কেমন হঠাৎ করেই পৃথিবীটা আমাদের সামনে পাল্টে গেল, তাই না। হঠাৎ করেই বিশ্ববাসী এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে এসে উপনীত হল। কোথাকার এক অদৃশ্য, অপরিচিত অণুজীব এসে গোটা মানব সভ্যতার চেহারাটাতেই গোল পাঁকিয়ে দিল। দেশে দেশে মহামারী লেগে গেল, মৃত্যু আতঙ্কে ঘরের মধ্যে সেঁদিয়ে গেল জনপদগুলো।

কেন?

মানুষ মরছে।

কারা মরছে?

বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাস বয়স্কদেরই বেশি কাবু করছে। মারা যাচ্ছে তাঁদেরই বেশির ভাগ কাতারে কাতারে। আর অন্য যাঁরা মরছেন, তাঁদেরও বেশির ভাগই পুরোনো রোগে ভোগা, অসুস্থ। তাহলে কথাটার অর্থ কি দাঁড়াল? অর্থ হল, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যাঁদের দুর্বল তাঁদেরই বশে নিচ্ছে করোনা। আর তার পরিণতি তো আমরা জানিই। ফুসফুস বিকল হয়ে দমবন্ধ মৃত্যু।

আরো পড়তে পারেন: ব্যথা বুঝি কেমন করে?

আপনার শেষরক্ষার হাতিয়ার: ইম্যুউন সিসটেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা )

ভাল করে হাত ধোও, হাত না ধুয়ে নাক-মুখ ছুঁয়ো না, কনুইতে হাঁচি দাও, মাস্ক পড়, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখ, অন্তরণে থাক ইত্যকার বিধিনিষেধ ভেদ করে বা এদের ফাঁক গলে করোনা আপনার শরীর পর্যন্ত পৌঁছে গেলে আপনার শেষরক্ষার হাতিয়ার হলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা- ইম্যুউন সিসটেম।

প্রশ্ন হলো, মানুষের এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে কেমন করে? সব মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এক রকম হয় না কেন? এর উত্তর অত্যন্ত জটিল। ‘মস্তিষ্কের পর প্রতিরোধী ব্যবস্থাই হলো দ্বিতীয় জটিলতম শারিরীক ব্যবস্থাপনা।’ বলেছেন শাই শেন ওরটেকনিয়ন ইসরাইল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির ইম্যুউলজিস্ট। মানুষের ইম্যুউন সিসটেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের সার সংক্ষেপ করে আমরা বলতে পারি, প্রায় ৮০০০ রকমের জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সীমাহীন জটিল এক নেটওয়ার্কের মধ্যে, সার্বক্ষণিক মিথষ্ক্রিয়ায় রত শত শত রকমের কোষ ও সংকেতবাহী অসংখ্য জৈবিক অণুর সমন্বয়ে গঠিত শরীরের এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা।

সুখের বিষয় হলো, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অর্থাৎ ইম্যুউন সিসটেমের যত্ন নেবার জন্য ইম্যুউনোলজির অতসব জ্ঞান নেবার দরকার নেই। কিছু সহজ নিয়মনীতি জেনে নিলেই তা করা সম্ভব।

প্রায় ৮০০০ রকমের জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সীমাহীন জটিল এক নেটওয়ার্কের মধ্যে, সার্বক্ষণিক মিথষ্ক্রিয়ায় রত শত শত রকমের কোষ ও সংকেতবাহী অসংখ্য জৈবিক অণুর সমন্বয়ে গঠিত শরীরের এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

আপনার বয়স যদি হয় ষাটের নিচে, আর আপনি যদি এরই মধ্যে জটিল ও স্থায়ি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে না থাকেন, আর জীবনযাত্রায় খারাপ কোনো অভ্যাস রপ্ত না করে থাকেন তবে আশা করা যায় যে, আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভালই কাজ করছে। আপনি আশা করতে পারেন যে, করোনা ভাইরাস সহ যেকোনো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে আপনি ভালই লড়াই করতে পারবেন।

একটা হাত করোনাভাইরাস ঠেকাচ্ছে। A hand is resisting coronavirus.

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, আপনার রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা এত শক্তিশালী হওয়ার পরও বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা দুর্বল হতে থাকবে। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জেনেট লর্ড মনে করেন, একজন সমর্থ মানুষের ষাট বছর বয়সের পর থেকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এই ক্ষয় শুরু হয়। তারপর যতই বয়স বাড়ে, ততই তা দুর্বল হতে থাকে, ততই সে আক্রান্ত হতে থাকে নানাবিধ রোগে। আর শেষ পর্যন্ত এ কারণেই মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

আরো পড়তে পারেন: করোনা ভাইরাস আপডেট বাংলাদেশ: দারিদ্র্য ও টিকে থাকার লড়াই

ষাটের আগেই বুড়িয়ে যান নি তো!

উপরে যা বলা হল, তা তো গেল সমর্থবান মানুষের কথা, যাঁরা ষাট পর্যন্ত শরীরকে ধরে রাখতে পেরেছেন তাদের কথা। এর বাইরের যাঁরা, যাঁরা শরীরের ব্যাপারে জীবনযাত্রা থেকে কোনো সহযোগিতা পান নি বা নিজেরাও চেষ্টা করেন নি, তাঁদের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার ক্ষয় শুরু হয়েছে কিন্তু সেই বয়ঃসন্ধি কাল থেকেই। কৈশোর পেরিয়ে যখন থেকে সে জীবনযাত্রার বদভ্যাসগুলোকে রপ্ত করতে শুরু করেছে- আয়েশি জীবনে অভ্যস্ত হয়েছে, অস্বাস্থ্যকর খাবারে রুচি গড়েছে, ধূমপানে আসক্ত হয়েছে- তখন থেকে।

অল্প বয়স থেকেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষয়ের এই প্র্রক্রিয়া মানুষের বয়স সম্পর্কে দুই রকমের ধারণার জন্ম দিয়েছে। এক. কালানুক্রমিক বয়স, বয়সের সাধারণ ধারণা, ক্যালেন্ডারের পাতায় যে বয়সের হিসেব রাখা হয় । দুই. জৈবিক বয়স, যা একজন মানুষের ইম্যুউন সিসটেম অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। এ বয়স গড়ে ওঠে আমাদের জীবনযাত্রা থেকে। খাদ্য ও অন্যান্য অনুষঙ্গ থেকে শরীরের অভ্যন্তরীণ জিনে নানা রকম রাসায়নিক যুক্ত বা বিযুক্ত হয়ে এই বয়স নির্ধারিত হয়। সাধারণত একজন মানুষের কালানুক্রমিক বয়স এবং জৈবিক বয়স একই হারে বাড়ে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই দুইয়ের মধ্যে ২০ বছরের ফারাক হয়ে যেতে পারে। সেটা কম বা বেশি যেকোনো দিকেই হতে পারে। ৬০ বছর বয়সের কেউ হয়ে যেতে পারেন ৪০ বছর বয়সের মত, আর কেউ হতে পারেন ৮০ বছরের মত।

শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইম্যুউন সিটেমের তারতম্যের কারণে ৬০ বছর বয়সের কেউ হয়ে যেতে পারেন ৪০ বছর বয়সের মত, আর কেউ হতে পারেন ৮০ বছরের মত।

কারো জৈবিক বয়স সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে পারলে আমরা তা থেকে কি কোনো সুবিধা নিতে পারি? একবার ভাবুন তো, কারো জৈবিক বয়স দুর্বল হলে অর্থাৎ তাঁর কালানুক্রমিক বয়স থেকে জৈবিক বয়স বেশি হলে তা কমিয়ে আনার জন্য আমরা কি কোনো চেষ্টা নিতে পারি? পারলে, ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে।

জৈবিক বয়স আমরা জানব কি করে?

অতি সম্প্রতি শাই শেন ওর ও মার্ক ডেভিসের নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক মানুষের জৈবিক বয়স নির্ণয়ের লক্ষে একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। তারা ২০ থেকে ৩১ ও ৬০ থেকে ৯৬ বছর বয়সী দুই দল লোকের উপর মাল্টিওমিক পদ্ধতিতে দীর্ঘ নয় বছর ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা যেটা আবিষ্কার করেন তা হলো, একজন মানুষের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার অন্তর্গত উপাদানগুলোকে বিশ্লেষণ করে তাঁর জৈবিক বয়স নির্ধারণ করা যায়। ধরা যাক, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একটা আবক্র রেখায় প্রকাশ করা হলো। শাই শেন ওরের ভাষায়, ‘আপনার কালানুক্রমিক বয়স যাই হোক না কেন এই আবক্র রেখায় আপনার বয়স ঠিক কোথায় অবস্থান করছে তা আমরা নিশ্চিত করেই বলে দিতে পারব।’ এই গবেষকরা জানাচ্ছেন, তারা এর একটি সহজলভ্য পরীক্ষা-পদ্ধতির মডিউল তৈরির জন্য কাজ করছেন।

আমরা কি সেই মডিউল বাজারে আসা অবধি অপেক্ষা করে থাকব? একদমই না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই এক অবস্থানে স্থির থাকতে পারে না। হয় দুর্বল হতে থাকবে অথবা শক্তিশালী হবে। তো আপনাকে সবসময়ই চেষ্টা করতে হবে, আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যবস্থাটি যেন উন্নতির দিকেই ধাবিত হয়। তাই আপনাকে শুরু করতে হবে আজ থেকেই। কোনো পরীক্ষা-পদ্ধতির জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

জৈবিক বয়স কমানোর শুরুটা করবেন কিভাবে?

সে প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজব আমরা। তার আগে স্বল্প পরিসরে একটু জেনে নেব, কি কারণে আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে, অর্থাৎ আমাদের জৈবিক বয়সটা কালনুক্রমিক বয়সের চেয়ে বেড়ে যায় কিভাবে।

ধরে নেই, আমাদের শরীর আর রোগ-ব্যাধির মধ্যে একটা বর্ডার বা সীমান্ত আছে। প্রাকৃতিক ভাবেই এই সীমান্ত রক্ষার জন্য আছে একটি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এই বাহিনী যে ব্যবস্থাপনার অধীন তাকে বলা হয় ইন্নেট ইম্যুউন সিসটেম অর্থাৎ সহজাত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সন্ধানে এই সীমান্ত রক্ষীবাহিনী নানা দলে ভাগ হয়ে শরীরের সর্বত্র সারাক্ষণ নিরলসভাবে নজরদারি করে বেড়ায়। যখনই তারা কোনো অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পায় তখনই তারা একে ধ্বংস করার যুদ্ধ শুরু করে দেয়। তিন ভাবে তারা শত্র‌ুকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস নেয়। এক. নিজের সাথে আত্মীকরণ অর্থাৎ গিলে হজম করে ফেলা, দুই. শত্র‌ুর জন্য বিষাক্ত ক্যামিকেল ছিটিয়ে তাকে ঘায়েল করা, তিন. এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা সুইসাইডাল এ্যাটাকের মত- নিজের ডিএনএ ভেঙে জাল তৈরি করে শত্র‌ুর উপর তা বিস্তৃত করা এবং নিজের সাথে সাথে শত্র‌ুকেও ধ্বংস করা।

শত্র‌ুকে খুঁজে ফেরা আর ঘায়েল করার এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ক্যামোটেক্সিস

Neutrophil- A cell, that is a main part of human's immune system.   নিউট্রোফিলের ত্রিমাত্রিক ছবি। এরা রক্তে এক ধরনের শ্বেত কণিকা। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার  সম্মুখ সারির সৈনিক।
নিউট্রোফিলের ত্রিমাত্রিক ছবি

আর এই প্রক্রিয়ার সম্মুখ সারির সৈনিকের নাম নিউট্রোফিল। এরা রক্তে এক ধরনের শ্বেত কণিকা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিউট্রোফিলগুলো নিজের পারদর্শিতা হারাতে শুরু করে। তারা হয়তো শত্র‌ুকে আগের মতই খুঁজে পারে, কিন্তু শত্র‌ুকে ঘায়েল করাটা তার জন্য আর অত সহজ হয় না। এমন কি শত্র‌ুকে ঘায়েল করা বাদ তারা প্রায়শই স্বপক্ষের কমরেড কোষদের আক্রমণ করতে শুরু করে এবং ধ্বংস করে। এ যেন তুমুল যুদ্ধক্ষেত্রে উদভ্রান্ত-দিকভ্রান্ত সৈনিক দল।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফ্লামেশন এন্ড এইজিংয়ের পরিচালক প্রফেসর জেনেট এম লর্ড মনে করেন, এখান থেকেই শুরু হয় জৈবিক বয়স বেড়ে যাবার পালা। অন্য কথায়, শরীরের প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার এই শুরু।

তাঁর মতে, এই সময় শরীরে দুই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এক. প্রতিরোধ ব্যবস্থার গতি কমে যাওয়ার সুযোগে রোগ বা সংক্রমণ শরীরে বাসা বাধতে শুরু করে, দুই. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-র প্রধান সৈনিক নিউট্রোফিল সহযোদ্ধা কমরেডদের দ্বারা ভুল আক্রমণের শিকার হয়ে গঠনকাঠামো পরিবর্তন করে নিজেরাই একটা উৎপাতে পরিণত হতে থাকে এবং শরীরে নানা স্থানে ব্যথা-বেদনার জন্ম দিতে থাকে।

একারণেই আমরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নানা স্থানে নানা রকম ব্যথা-বেদনায় আক্রান্ত হতে শুরু করি।

এই নাজুুক অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কি সম্ভব? দিকভ্রান্ত নিউট্রোফিলগুলোকে আমরা কোনোভাবে আবার সঠিক দিকদর্শী করে তুলতে পারি?

প্রফেসর জেনেট লর্ড জানাচ্ছেন, ‘নিউট্রোফিলকে দিকভ্রান্ত করার পেছনে মূল দায় হল কিছু এনজাইমের অতিসক্রিয়তা।’ জেনেট আরো জানাচ্ছেন, গবেষণায় তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে, ওষুধের মাধ্যমে এই অতিসক্রিয় এনজাইমগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অসুস্থ বয়স্ক মানুষের মধ্যে এই ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা গেছে যে, ‘তাদের দিকভ্রান্ত নিউট্রোফিলগুলো তরুণদের নিউট্রোফিলের মতই আবার ঠিকঠাক কাজ করছে এবং শত্র‌ুকে নির্ভুল আক্রমণ করতে পারছে।’

কি সেই যাদুকরী ওষুধ যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে?

স্ট্যাটিনস- যা অনেক আগে থেকেই পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ কোলেস্টরেল কমানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে।

তো, এই ওষুধটি কি করে বয়সসংক্রান্ত গবেষকদের নীরিক্ষার মধ্যে প্রবেশ করল?

প্রফেসর জেনেট এম লর্ড
প্রফেসর জেনেট এম লর্ড

বৃদ্ধ বয়সে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায়, দৃশ্যতঃ যে রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশির ভাগ মানুষ মারা যায় তা হলো নিউমোনিয়া। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া বৃদ্ধ রোগীদের ডাটা নীরিক্ষা করতে যেয়ে প্রফেসর জেনেট লর্ড খেয়াল করলেন যে, যেসব রোগী দীর্ঘ দিন ধরে কলোস্টেরল কমানোর জন্য স্ট্যাটিনস গ্রহণ করছেন তাঁদের মৃত্যুর হার অনেক কম। এটা দেখে তিনি দ্রুত ছোট পরিসরে একটা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। তিনি তাঁর ধারণার পক্ষেই রায় পান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখন প্রয়োজন বড় পরিসরে আরো একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

প্রফেসর জেনেট এরং তাঁর দল সেদিকেই এগুচ্ছেন। এখানেও যদি ধারণানুরূপ ফল পাওয়া যায়, তবে দিকভ্রান্ত নিউট্রোফিলগুলোকে পথে আনার একটা ফার্মাকোলজিক্যাল সমাধান পাওয়া যাবে। কথাটা এমন করেও বলা যেতে পারে যে, ওষুধের মাধ্যমে মানুষের জৈবিক বয়স কমানোর একটা পথ তৈরি হয়ে যেতে পারে এই গবেষণার মাধ্যমে।

তবে সবাইকেই যে, স্ট্যাটিনস দেয়া যাবে তা কিন্তু নয়। কারণ, এটা শুধু কলোস্টেরল যাদের বেশি আছে তাদের বেলায়ই প্রযোজ্য হবে। এবং এই ওষুধের বিশেষ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো বিবেচনায় নিয়েই এই ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

শরীর চর্চায় বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

খুশির কথা হল, ওষুধ ছাড়াও দিকভ্রান্ত নিউট্রোফিল বাহিনীকে তাদের তারণ্যের সময়ে রিসেট করার আরো উপায় আছে। আর তা হল, শরীর চর্চা। হাঁটা, ব্যয়াম, দৌাড়ানো। ২০১৬ সালে প্রফেসর জেনেট এম লর্ড ও তাঁর দল ২১১ জন বয়স্ক মানুষ নিয়ে এব্যাপারে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। দেখা যায়, যাঁরা প্রতিদিন দশ হাজার কদম, অর্থাৎ প্রায় আট কিলোমিটার, সময়ের দিক থেকে ধরলে দেড় থেকে পৌাণে দুই ঘণ্টা হাঁটেন তাঁদের নিউট্রোফিল তরুণদের মতই কর্মক্ষম হয়ে ওঠে বা কর্মক্ষম থাকে।

প্রফেসর জেনেট বলেন, ‘এটা ঠিক যে, নিউট্রোফিল এন্টিভাইরাল নয়। তাই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এরা কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারে না। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে যে কারণে বেশির ভাগ মানুষ মারা যায় সেই নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে নিউট্রোফিল বাহিনী বেশ জোড়ালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম, এমনকি মৃত্যুর পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া রোগীকেও জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার সামর্থ রাখে এরা।’

টি-সেল- রোগ প্রতিরোধের আর এক সৈনিক

আমাদের দেহ রক্ষী বাহিনীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক টি-সেল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিউট্রোফিলের মত টি-সেলগুলোও লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি করতে শুরু করে। এরাও ঠিক একই ভাবে শরীরের নানা স্থানে নানা ভাবে ব্যথা-বেদনার সৃষ্টি করতে থাকে। ধীরে ধীরে নিউট্রোফিলের মতোই টি-সেলগুলোেও আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষতে পরিণত হয়। কালক্রমে এই দুই ধরনের ত্র‌ুটিযুক্ত কোষ শরীরের পুরো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটাকেই পঙ্গু করে ফেলে। তবে আশার কথা হল, যথোপযুক্ত ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই আমরা টি-সেলের ক্ষতি বা বিচ্যুতি ঠিক করতে বা রোধ করতে পারি।

আরো পড়তে পারেন: করোনা উদ্বেগ: নিয়ন্ত্রণের ১০ কৌশল

বয়স কমানোর সম্পূরক খাবার ও ভিটামিন

ভিটামিন ই

বোস্টনের টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিতাত্বিক ইম্যুউনোলজিস্ট ডেয়ং ওউ বলছেন, ‘প্রথম উত্তর হচ্ছে- ভিটামিন ই’।

ডেয়ং ওউ
ডেয়ং ওউ

রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার উন্নয়নে মানুষ ভিন্ন অন্য প্রাণিতে ভিটমিন ই প্রয়োগে স্পষ্টতই ভাল ফল পাওয়া গেছে। মানুষের ক্ষেত্রেও এই ফল আশানুরূপ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কোনো কোনো গবেষক সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক খাদ্য হিসাবে ভিটামিন ই এর ব্যবহারে টক্সিক বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করেছেন। তবুও ওউ এ ব্যাপারে মোটেও নিরাশাবাদী নন।। তিনি বলছেন, ‘টি-সেলের পুনর্যৌবন লাভের জন্য যতটুকু ভিটামিন ই আমাদের প্রয়োজন তার কেবল মাত্র দ্বিগুণ মাত্রার ব্যবহারেই শরীরে টক্সিসিটি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’ ওউ এবং তাঁর সহকর্মীরা একটি নার্সিং হোমের ৬৭০ জন বৃদ্ধের অর্ধেক সংখ্যককে প্রতিদিন স্বল্প মাত্রার ভিটামিন ই এবং আর অর্ধেক সংখ্যককে প্ল্যাসেবো অর্থাৎ রোগীর মন রাখার জন্য প্রদত্ত ঔষধ খেতে দেন। তাঁরা লক্ষ করেন যে, উপরের শ্বাসনালীর ইনফেকশন সেরে ওঠার ক্ষেত্রে ভিটামিন ই গ্রহীতারা উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নির্দেশ করতে পেরেছেন।

এই সাফল্য দেখে তাঁরা আরো বড় একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু ডেয়ং ওউর কাছে পূর্ববর্তী ট্রায়লের ফলাফলই এতটা জোড়ালো মনে হয়েছে যে, তিনি ইতোমধ্যেই তাঁর কাছে আসা ৬৫ বছরের অধিক বয়সী মানুষদের প্রতিদিন ২০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (আইইউ) অর্থাৎ ১৩৩.৪ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন ই দিতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা তাদের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে, ক্ষতি করবে না।’

ভিটামিন ডি

আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষয় রোধের জন্য আরো একটি ভিটামিনের কথা আজকাল বেশ গুরুত্ব দিয়ে বলা হচ্ছে। ভিটামিন ডি। আমাদের মত দেশে যেখানে প্রায় সারা বছর ধরে রোদ পাওয়া যায়, সেখানে সাধারণ্যেে এটার অভাব হবার কথা নয়। কিন্তু যাঁরা একদমই রোদে যান না বা ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খান না তাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হতেই পারে। গবেষণা বলছে, ভিটামিন ডি উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ রোধ করতে পারে। ওউ বলছেন, ‘একজন বয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ১০০০ থেকে ২০০০ আইইউ পরিমাণ ভিটামিন ডি গ্রহণই যথেষ্ট এবং এর থেকে বেশি নেয়া উচিত নয়। কেননা, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি টি-সেলের কার্যক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

জিঙ্ক

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাস্থ্য রক্ষায় আরো একটি সম্পূরক শক্তি হল জিঙ্ক। ‘যেকোনো ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন বা সংক্রমণ রোধের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে এটা খুবই কার্যকরী।’ বলছেন পুষ্টিতাত্ত্বিক ইম্যুউলজিস্ট ডেয়ং ওউ। ‘কিন্তু মনে রাখতে হবে, অন্যান্য সম্পূরকের মত এটিরও মাত্রা রক্ষা করতে হবে। না হলে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে।’

থাইমাস- যৌবন ধরে রাখার অস্ত্র

থাইমাস- মানুষের যৌবন ধরে রাখার অস্ত্র। Thymus.

নিউট্রোফিল ও টি-সেলের বাইরে মানবদেহের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু খুব কম আলোচিত অঙ্গ আছে যা বয়স বেড়ে গেলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার নাম হচ্ছে থাইমাস। এটির অবস্থান আমাদের বুক পাঁজরের হাড়ের নিচে। অনেকটা হার্টের মত দেখতে রসবাহী টিস্যুর তৈরি এই অঙ্গটি টি-সেলের জন্মস্থান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মত কাজ করে। এখান থেকে টি-সেলগুলো পূর্ণাঙ্গ বিকশিত হয়ে কর্তব্য পালনের জন্য সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের শৈশবে এই অঙ্গটি খুবই সক্রিয় থাকে এবং পূর্ণ রূপে বিকশিত হয়। কিন্তু কৈশোর পেরিয়েই প্রতি বছর তিন শতাংশ হারে অঙ্গটি সঙ্কুচিত হতে থাকে। মধ্য-বয়সের পর এটার বলতে গেলে অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে। ফলে দেহে টি-সেলের সংখ্যা নগণ্য পর্যায়ে চলে আসে। ফলস্বরূপ ‍নতুন অণুজীব বা রোগ প্রতিরোধে বয়স্ক মানুষ অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়ে। যাদের থাইমাসের অবস্থা আরো খারাপ হয় তাদের পক্ষে আসলে নতুন ধরনের রোগ প্রতিরোধের কোনো ক্ষমতাই আর অবশিষ্ট থাকে না।

এন্টি এজিং নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের প্রধান গবেষণার বিষয় এখন থাইমাসের পুনর্জ্জীবন। কোনো কোনো গবেষক হরমোনের মাধ্যমে থাইমাস পুনর্জ্জীবনের চেষ্টা করছেন। তবে প্রফেসর জেনেট এম লর্ড ও তাঁর সহযোগীরা ২০১৮ সালে এক গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিনা ওষুধে থাইমাস পুনর্গঠনের উপায় ইঙ্গিত করেন। এই গবেষণার জন্য তাঁরা ৫৫ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ১২৫ জন সাইকেলিস্টকে বেছে নেন- যাঁরা সবাই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত লম্বা দুরত্বের সাইকেল চালনায় অভ্যস্ত। বলাই বাহুল্য যে, এঁদের সবাই ছিল তাঁদের স্ব স্ব বয়সের অন্যদের তুলনায় সবল, সুঠাম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং নিশ্চিতই তাঁদের ছিল উন্নততর রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা। গবেষকরা এবার তাঁদের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষাগুলোর একটি হচ্ছে টি-সেল কাউন্ট। গবেষকরা দেখতে পান যে, তাঁদের পূর্বধারণার মতই প্রত্যেকেরই টি-সেলের সংখ্যা তরুণদের টি-সেলের সংখ্যার সমান। অন্য এক পরীক্ষায় তাঁরা দেখতে পান সবারই থাইমাস পূর্ণাাঙ্গ- যৌবনোদ্দীপ্ত।

রোগ প্রতিরোধের শেষ কথা: শারিরীক সক্রিয়তা, ব্যায়াম, হাঁটা, দৌড়

জেনেট বলেন, ‘থাইমাস সংকোচনের বেশির ভাগটােই আসলে হয় শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়ার কারণে।’

প্রাণীদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, শারিরীক সক্রিয়তার মাধ্যমে ‍শুধু যে, থাইমাসের ক্ষয়রোধই সম্ভব তাই নয়, ক্ষয়ে যাওয়া থাইমাসের পুরোপরি পুনরুদ্ধারও সম্ভভ। অবশ্য মানুষের মধ্যে গবেষণা চালানোর পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে শারিরীক সক্রিয়তা বা ব্যায়াম অন্যরকম ভাবেও সাহায্য করে থাকে। ‘ক্রিয়শীল কঙ্কালসংশ্লীষ্ট পেশি বাত বা ব্যথা নাশক এবং সংক্রমণ বিরোধী কোষের উদ্দীপনা বাড়াতে সহায়ক।’ বলছেন জেনেট লর্ড। ‘কঙ্কালসংশ্লীষ্ট পেশি হচ্ছে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার টিস্যু- ব্যায়াম বা কোনোভাবে এগুলিকে সচল রাখতে পারলে বহুরকমের স্বাস্থ্যসুবিধা লাভ করা সম্ভব। আসলে ব্যায়াম সকল বয়সের জন্যই ভাল।’ যুক্ত করেন তিনি।

’করোনা সংক্রমণের এই সময়ে মানুষকে একটি পরামর্শ দিতে বললে আপনি কি বলবেন’ সম্প্রতি এমন একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল প্রফেসর জেনেট এম লর্ডের কাছে। তিনি বলেন, ‘হাঁটুন। যেকোনো ভাবেই হোক আপনার কদম বাড়িয়ে প্রতিদিন ১০,০০০এ তুলুন।’

পাঠক, আমরা জানি, করোনা যুদ্ধের এই কালে চারিদিকে যখন লকডাউন, গৃহান্তরণ জেনেটের পরামর্শ পালন তখন কতটা কঠিন। তবুও আমরা বলব, যেকোন পরিস্থিতিতেই হোক সক্রিয় থাকুন। লকডাউন আর সঙ্গনিরোধে থাকলেও চেষ্টা ছাড়বেন না।

ঘরে থাকুন। তবুও হাঁটুন। ব্যায়াম করুন। ঘরে, ছাদে, বাড়ির আঙিনায়।

শারিরীক সক্রিয়তা আপনার রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে সচল ও সজীব রাখে।

শারিরীক সক্রিয়তা আপনার জৈবিক বয়সকে কমিয়ে দেয়, সংক্রমণের আশঙ্কা কমায়, বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত রাখে।

তথ্যসূত্র: সাপ্তাহিক নিউ সাইটিস্ট। উইকিপিডিয়া। টেকনিয়ন ইসরাইল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির ওয়েব সাইট। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফ্লামেশন এন্ড এইজিংয়ের ওয়েব সাইট।  টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট।

6 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here